রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সৌদি আরবে এক সপ্তাহে প্রায় ১৪ হাজার গ্রেপ্তার

>> আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, মামলা হলেও শনাক্ত হয়নি হামলাকারী

>> আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার চার্জশিট গ্রহণ, তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

>> ৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার, ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন

>> জাতীয় নারীশক্তির নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা, ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি

>> ব্রাসেলসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৯

>> ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গোপালগঞ্জে আহত ২

>> সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচারযুদ্ধে এপস্টিনের নথি ব্যবহার করছে হুতিরা

>> রাঙামাটি বন বিভাগে বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

>> ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজন বন্ধের দাবি শুরায়ি নেজামের

আপনি পড়ছেন : আইন-আদালত

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার চার্জশিট গ্রহণ, তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


Sifat Islam Sohag ২৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২৪



আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার চার্জশিট গ্রহণ, তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির অভিযোগপত্র আমলে নেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি এখন বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। এদিন কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ইকবাল। তাঁরা পলাতক থাকায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আনিসুল হকের নিজের নামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় নির্ধারণ করা হয় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। দুদকের হিসাবে, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।

তদন্তে আনিসুল হকের নিজের নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে একই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকা।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এসব তথ্য দুদকের তদন্ত ও অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আসামিদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।