ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসার আড়ালে বিপুল অর্থের চোরাকারবার ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অর্থায়ন করেছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলায় স্বর্ণ ও হীরা বিক্রির আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা চোরাকারবার ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, দিলীপ আগরওয়ালা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর দাবি, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবসায় এলসির মাধ্যমে বৈধভাবে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকার স্বর্ণালংকার, হীরা ও অন্যান্য অলংকার আমদানি করা হয়।
অন্যদিকে, একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার স্বর্ণালংকার কেনার তথ্য দেওয়া হলেও এ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা যায়নি বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ কারণেই অর্থপাচার ও চোরাকারবারের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ছাড়া দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে অর্থ জোগান এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগও তোলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আসামিপক্ষের বক্তব্য বা পৃথক কোনো প্রমাণের তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, অর্থপাচার ও চোরাকারবারের অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়। মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।