কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ সকালে তাঁর পরিচিত বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চক্রের এক সদস্য তাঁকে ফোন করেন। ফোনে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরিচিত ব্যক্তির নম্বর থেকে ফোন আসায় এবং আগে থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেননি রশিদুল। পরে জরুরি প্রয়োজনে টাকা দরকার বলে জানিয়ে বিকাশ ও নগদের কয়েকটি নম্বরে দফায় দফায় অর্থ পাঠাতে বলা হয় তাঁকে। এভাবে তাঁর কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই ব্যবসায়ী।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয় থানায় মামলা করা হলেও প্রায় আট মাসেও প্রতারণার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পরে মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করলে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই ফরিদপুর। তদন্তকারীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির সন্ধান পান। এরপর ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারণার কাজে চক্রটি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করত। ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল সিম নিবন্ধন করে ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ব্যবহৃত সিম ফেলে দিয়ে পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করত তারা।
চক্রটির সদস্যরা কখনো গভীর রাতে নারীদের ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে ফোন করে ভয় দেখাত। আবার কখনো তান্ত্রিক বা কবিরাজ সেজে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করত। পাশাপাশি পরিচিত ব্যক্তির নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে ব্যবসায়ীদেরও প্রতারণার ফাঁদে ফেলত তারা।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ফোন করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত,