শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩

আপনি পড়ছেন : ঢাকা

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জনতার বাজারে তালা, উদ্যোক্তাদের অভিযোগ


Rabeya ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৩:১৮



আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জনতার বাজারে তালা, উদ্যোক্তাদের অভিযোগ


রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ‘জনতার বাজার-১’ নিয়ে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের পরও বাজারের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, আদালতের আদেশের অনুলিপি ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছানোর পরও ৩ সেপ্টেম্বর বাজারের কর্মীদের বের করে দিয়ে সেখানে তালা দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বাজারটির উদ্যোক্তারা। আদালতের নির্দেশনা মেনে বাজারের বর্তমান অবস্থা বজায় রেখে এটি পুনরায় চালুর দাবি জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উদ্যোক্তা বোরহান উদ্দিন। এ সময় সানোয়ারুল হকসহ অন্য উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোক্তারা জানান, ২০২৫ সাল থেকে তাঁরা জনতার বাজার-১ পরিচালনা করে আসছেন। কৃষক ও উৎপাদকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে ভোক্তাদের কাছে তুলনামূলক ন্যায্য দামে পৌঁছে দেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাঁদের ভাষ্য, শুরুতে বাজার পরিচালনার নীতিমালা অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব ছিল পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করা। আর ঢাকা জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত কর্মীরা পণ্য বিক্রি ও বাজারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

পরবর্তী সময়ে নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেলা প্রশাসনের নিয়োগ করা কর্মীদের বেতনসহ কিছু অতিরিক্ত আর্থিক দায় উদ্যোক্তাদের ওপর চাপানো হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে কর্মীদের নিয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জেলা প্রশাসনের হাতেই ছিল বলে দাবি করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারের দখল ও বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত রাখা।

এ ছাড়া আদালতের আদেশের পরও বাজারে তালা দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত, বাজারের নীতিমালা পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা এবং কর্মীদের বেতন-ভাতার দায় উদ্যোক্তাদের ওপর দেওয়ার আইনগত ও প্রশাসনিক ভিত্তি যাচাইয়ের দাবি জানান তাঁরা।

বাজারের অবকাঠামো ও সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়েও তদন্তের দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে জনতার বাজার-১ ও ২-এর সরকারি অর্থ ব্যয় এবং পরিচালন ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট করার কথা বলেন তাঁরা।

উদ্যোক্তা সানোয়ারুল হক জানান, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের একটি চুক্তি হয়। চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বলে দাবি করেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী, উদ্যোক্তাদের সরাসরি উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করার কথা এবং বিক্রির পর ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কেটে তাঁদের পাওনা দেওয়ার কথা ছিল।

তবে বাজার বন্ধের চিঠিতে উদ্যোক্তারা ওই ২ শতাংশ অর্থ জমা দেননি—এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সানোয়ারুলের দাবি, ওই অর্থ উদ্যোক্তাদের জমা দেওয়ার কথা নয়; বরং পণ্য বিক্রির সময় জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত সুপারভাইজারের তা কেটে রাখার কথা।

বাজার পরিচালনায় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাজারে যাতায়াতের রাস্তা সংস্কার, সফটওয়্যার কেনা এবং কর্মীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতে উদ্যোক্তাদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

চুক্তি বাতিলের চিঠির তারিখ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, ১২ জুলাই চিঠি হাতে দেওয়া হলেও তাতে ৩০ জুলাইয়ের তারিখ উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাবপত্র বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছিল।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাঁরা নানা জটিলতার মুখে পড়েছেন। বাজারসংলগ্ন এলাকায় গরুর হাট বসানোর দায়ও তাঁদের ওপর চাপানো হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

অন্যদিকে বাজার বন্ধের বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। জেলা প্রশাসনের এডিসি ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থাকা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে তালা দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ফলে বাজার বন্ধের ঘটনায় উদ্যোক্তাদের দাবি ও প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। একদিকে উদ্যোক্তারা আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের কথা বলছেন, অন্যদিকে প্রশাসন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিকে বাজার বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজার পরিচালনায় কোনো অনিয়ম বা সমস্যা থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজারটি চালু রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত। পরবর্তী সময়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তাঁরা তা মেনে নেবেন বলেও জানান তাঁরা।