হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে সাত ইসলামী রাজনৈতিক দলের ঐক্য প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঐক্যে থাকা দলগুলো অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে থাকবে কি না বা ভবিষ্যতে নতুন কোনো জোটে যোগ দিতে পারবে কি না—এ নিয়ে মতৈক্য না হওয়ায় আলোচনা থমকে আছে।
পাশাপাশি ঐক্য গঠনের পর হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা এবং দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে।
সাত দলের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি মাদ্রাসায় সাত দলের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ঐক্যের খসড়া রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় সেদিন কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
এরপর মতপার্থক্য নিরসনে ২৪ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানকে। সাত দলের প্রতিটি থেকে তিনজন করে ২১ জন এবং হেফাজতের আরও তিনজন নেতা এতে থাকবেন।
আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকায় লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অন্য রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক, হেফাজতের ভূমিকা, দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং ঐক্যের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, ঐক্যটি নির্বাচনী সমঝোতার জন্য হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমন্বয়ের কাঠামো হিসেবে গড়ে উঠবে—এ বিষয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার বলেছেন, তাঁরা সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানান। তবে তাড়াহুড়ো করে এমন কোনো ঐক্য চান না, যা পরে আবার ভেঙে যায়।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বৈঠকেই সাত দলের ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।