ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে সাইনবোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সড়কে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তারা অবস্থান ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে সরে যান।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সাইনবোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সড়ক দখল করে বিক্ষোভ করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শ্রমিকেরা সড়ক ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরও জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মঙ্গলবারও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গাজীপুরের নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, তেলিচালা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়।