বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> চীনের যে কারখানায় প্রতি মাসে তৈরি হয় ৬০ লাখ স্মার্টফোন

>> দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলার শুনানি হয়নি, নতুন তারিখ ২৬ অক্টোবর

>> শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত

>> সাগরে মাছ ধরার নৌযান বাড়ছে, কমছে ইলিশের আহরণ

>> মাছের ব্যবসা ছেড়ে ছিনতাইয়ে, ভোর হলেই ছুরি হাতে বের হতেন সাদ্দাম

>> চুয়েটে ফটক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, চলছে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

>> ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল, সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে

>> হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৩ শর্ত

>> জ্বালানি তেল থেকে ১০ বছরে সরকার পেয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা

>> একলাফে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো—বিকল্প কি ছিল?

আপনি পড়ছেন : সিলেট

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত


২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:১৮



শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত


সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া টাকা এখন থেকে প্রতিদিন গণনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দানের অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ মাজারের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হবে, আর বাকি অর্থ ব্যবহার করা হবে মাজারের নিয়মিত পরিচালনা ও কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে।

মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। পরে কমিটির সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন সিদ্ধান্তগুলোর কথা জানান।

জেলা প্রশাসক জানান, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে রাখা হবে। ওই হিসাব জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজারের জন্য একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। পাশাপাশি একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।

সাত সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি

মাজারের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বিক পরিচালনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক এই কমিটির আহ্বায়ক থাকবেন।

কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ এবং পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন নিয়োগ পাওয়া ব্যবস্থাপক কমিটির সাচিবিক কাজ করবেন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে।

এর আগে দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে ২৩ জুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও মাজারের সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

দানবাক্স সিলগালা ও টাকা গণনা

এর আগে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে ১৮ জুন মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সময় দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার তিনটি পুরোনো ডেগও সিলগালা করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

পরে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন তাঁর উপস্থিতিতে দানবাক্সের তালা খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে চার দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে মোট ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২২ জুন পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর গণনা করে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা।

চার দফা গণনাতেই দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা ও রুপার অলংকার পাওয়া যায়।

মাজারের খাদেমদের দাবি ছিল, এত দিন দানবাক্সের অর্থ গণনা, ব্যাংকে জমা ও ব্যয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রতিদিন অর্থ গণনা, নির্দিষ্ট অংশ ব্যাংকে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয়ের একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো চালু হবে।