অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি গেট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় লাখ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের দাবি, কথিত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট গেটগুলোর রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের (এআরও) ওপর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার ওমর ফারুকের সরাসরি অনুমতি নিতে হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনস্টাফিং গেটে নিয়মিত পণ্য পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ফাইল নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের এসির কক্ষে যেতে হয়। এতে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের অভিযোগ, পণ্য পরিদর্শনের জন্য আবেদন জানানো হলে বিভিন্ন অজুহাতে পরদিন আসতে বলা হয়। কখনো পণ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কথা উল্লেখ করে প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি তাদের।
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার আটকে থাকলে ব্যবসায়ীদের ডেমারেজসহ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের দাবি, পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে এই ব্যয় বাড়তে থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য ছাড় করাতে না পারার আশঙ্কায় অনেকে চাপের মুখে পড়েন।
তাদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ লেনদেনের পরিমাণ ও পদ্ধতি যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রামাণ্য তথ্য এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মচারীর দাবি, এমবিবি আনস্টাফিং গেটের রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস নিয়মিত সহকারী কমিশনার ওমর ফারুকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকগুলোতে পণ্য পরিদর্শন ও খালাসসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে তিনি জানান।
ওই কর্মচারীর অভিযোগ, ঘুষ না দিলে আইনগত প্রক্রিয়া ও পরিদর্শনের অজুহাতে পণ্য আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি কথিত অনিয়ম নিয়ে আলোচনা এবং ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের প্রতিবাদের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অর্থ আদায়ের চাপ ও মানসিক হয়রানি বেড়েছে।
তাদের ভাষ্য, কখনো সারাদিন অপেক্ষায় রাখার পর রাত ১০টা বা ১১টার দিকে জানানো হয় যে সেদিন আর পণ্য পরিদর্শন বা ফাইলের কাজ সম্পন্ন হবে না। পরদিন আবার আসতে বলা হয়। এতে পরবর্তী দিনের ডেমারেজের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়েন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পণ্য খালাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশায় কেউ কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে কথিত অর্থ আদায়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় সেবা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের অভিযোগ, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্ব হলে তাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ে এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, কথিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত এবং পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণ পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে কাস্টমস কমিশনারসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার ওমর ফারুক এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।