ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি চলছে। শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাবে কাঠগড়া ও আশপাশের এলাকার অন্তত ১১টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে কয়েকটি কারখানার সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় শিল্প পুলিশ।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বেলা ১১টার দিকে অন্তত ১১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের এক সদস্য মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে কাঠগড়া এলাকার নাঈম নীটওয়্যারের শ্রমিকেরা প্রথমে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের এক সদস্য আহত হন।
শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় নাঈম নীটওয়্যারসহ কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ১১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেন কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় বেতন-মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিন অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেডের সামনে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে শিল্প পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিতপুর এলাকার নিউজ গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে নিট এশিয়া ও নিউ এজ গার্মেন্টসের শ্রমিকেরাও একই দাবিতে কর্মবিরতিতে যোগ দেন। কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা দলবদ্ধ হয়ে অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
কাঠগড়া আমতলা এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের কারখানাসহ আশপাশের দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।