সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে উপস্থিত একজন সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে পরে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির কার্যক্রম দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং পরের বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সম্প্রতি সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ নামে একটি ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর এই কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।