রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পিটুনিতে রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল (৩৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বারাপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শাহিনুর ইসলাম (২৬), শাহিন হোসেন (২৪) ও আলামিন হোসেন (৩২)। তাঁদের সবার বাড়ি একই গ্রামের। এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ১০ আগস্ট রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পর তাঁরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন।
ওসি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তিনজনের বাড়িতে অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে আসা ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রূপলাল দাস। পথে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
একপর্যায়ে প্রদীপের সঙ্গে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়র বোতল ও কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে উত্তেজিত লোকজন রূপলাল ও প্রদীপকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রূপলালকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে প্রদীপকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।