শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ নতুন নিরাপত্তা সুবিধা: কী কী থাকছে

>> ইসলামি সমাজ গঠনে যে ৪ ধরনের জ্ঞান জরুরি

>> পুলিশের তদন্ত নিয়ে ১৯ প্রশ্ন নাগরিক কমিটির, আসামিদের পাশে নেই আইনজীবীরা

>> বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

>> চুরির অপবাদে রাতে সালিস, সকালে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

>> ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ ঘণ্টা ধরে ৪০ কিলোমিটার যানজট

>> শাপলা ফুল তুলে দেওয়ার কথা বলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

>> স্কুল ভেসে গেছে, জঙ্গলে গাছে উঠে বেঁচে ছিল ৮ বছরের শিশু, ফিরল মায়ের কোলে

>> সাইফকে ছুরিকাঘাতের দায় স্বীকার করতে চান শরিফুল: পিটিআই

>> পাকিস্তানের ব্যাটিংকে ‘দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি’র সঙ্গে তুলনা ভনের

আপনি পড়ছেন : রংপুর

পুলিশের তদন্ত নিয়ে ১৯ প্রশ্ন নাগরিক কমিটির, আসামিদের পাশে নেই আইনজীবীরা


Rabeya ২৯ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৪:৫২



পুলিশের তদন্ত নিয়ে ১৯ প্রশ্ন নাগরিক কমিটির, আসামিদের পাশে নেই আইনজীবীরা


রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি ১৯টি প্রশ্ন তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বিবেচনায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি।

আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরের জাহাজ কোম্পানি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে নাগরিক কমিটি। লিখিত বক্তব্যে পুলিশের তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ।

নাগরিক কমিটির দাবি, দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছে, তার সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের বক্তব্য, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছু অসংগতি রয়েছে। এসব কারণে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে একটি পরিবারের চারজনকে হত্যা করার ঘটনা কতটা স্বাভাবিক। চারজনকে হত্যার পর আসামিরা দীর্ঘ সময় বাড়িতে অবস্থান করে গোসল ও খাবার খেয়েছেন—পুলিশের এমন বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগের তার কাটা, হত্যার আগে ও পরে অচেনা মোটরসাইকেলের চলাচল এবং কেউ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করছিল কি না—এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছে নাগরিক কমিটি।

লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। পুলিশের বক্তব্যে লুট হওয়া অর্থের পরিমাণ এবং আসামিদের ভাগে পাওয়া টাকার হিসাবে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে ইয়াবার সংখ্যার হিসাব কেন পরিবর্তিত হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে পরিবারের সদস্যরা কোনো আশঙ্কা বা অভিযোগ করেছিলেন কি না, বাড়ি নির্মাণ নিয়ে তাঁদের কাউকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং এসব বিষয় তদন্তে যাচাই করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নও তুলেছে নাগরিক কমিটি।

পলাশ কান্তি নাগ বলেন, শুধু আসামিদের স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করে তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, মুঠোফোনের তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সব তথ্য যাচাই করে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজন হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এদিকে, এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আপাতত আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। ভবিষ্যতে এ ঘটনায় অন্য কেউ গ্রেপ্তার হলেও তাঁর পক্ষে আইনজীবী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সমিতি। তবে তদন্তের গতিপথ বা ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পরিবর্তিত হলে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব ও সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন।

আফতাব উদ্দিন বলেন, চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে একই এলাকার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।