সুনামগঞ্জে এমরান হোসেন (২৩) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।
এমরান ওই গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর শার্টের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিরকুটের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এমরানের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় ১৫ দিন আগে বেড়াজালী বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়ার একটি পানির মোটর ও কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। পরে এমরান ও একই গ্রামের নিলু মিয়ার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়।
এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে বেড়াজালী বাজারে গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর কার্যালয়ে সালিস বসে। পরিবারের অভিযোগ, সালিসে এমরান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অপমান করা হয় এবং আগামী সোমবারের মধ্যে চুরি যাওয়া মোটর ফেরত দিতে বলা হয়। তা না হলে পুলিশে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এমরানের বাবা আবদুল হাসিমের দাবি, সালিসের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর ছেলে। রাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বোঝানোর পর সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে বারান্দায় এমরানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তাঁরা।
আবদুল হাসিম বলেন, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছে এবং সালিসে তাঁদের অপমান করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সালিসে এমরান বা তাঁর পরিবারের কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি। এমরান ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান জানান, পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আগামী সোমবার আবার বসার কথা ছিল। এর মধ্যে চুরি যাওয়া মোটর পাওয়া গেলে সেটি সেদিন নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এর বেশি কিছু বলা হয়নি।