বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে দাখিল করা একটি গোপন অভিযোগপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর)-এর সহকারী পরিচালক (এডি) শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং অডিট ও প্রশাসন শাখায় পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও জব্দের অনুরোধ জানানো হয়, যাতে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা যায়।
অভিযোগকারীর দাবি, অভিযোগ জমা দেওয়ার পরপরই এর বিষয়বস্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যায়। এতে বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় বিআরটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরের পিএ-২ রেজাউলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে, তিনি নথির তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সরবরাহ করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযোগের পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ও রাহিমা আক্তার মুক্তাকে শেখ ইমরান হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শেখ ইমরান দাবি করেছেন—তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অডিট করেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিটনেস শাখাকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ‘মিস্ত্রি মিরাজ’ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জুনিয়র কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত খরচ বহনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে শেখ ইমরান, রেজাউলসহ অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ ফাঁসের উৎস শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক ও অডিট বিভাগের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।