সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বাস্তবতা

>> অপ্রতিম হত্যার পর আতঙ্কিত অভিভাবকেরা, শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

>> দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলের শাস্তির দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ

>> নারায়ণগঞ্জে লোকালয়ে কুমির, কীভাবে এল জানেন না কেউ

>> ‘বন্ধুর লাশ নিয়ে হাসপাতালে আছি, সে আর ফোন ধরবে না’

>> গরমে শ্রমিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, চার বছরেই উঠে আসতে পারে খরচ

>> জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

>> লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পাম্পে ভিড়, ক্ষোভ গ্রাহকদের

>> ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে চায় সংবিধান সংশোধন কমিটি: সালাহউদ্দিন আহমদ

>> কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান


Rabeya ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৩



নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান


হিমালয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্যোগের পর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেছেন, গত সপ্তাহের বিপর্যয়কে সাধারণ কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহধসের পর কাদাপানি ও পাথরের প্রবল স্রোত নেমে আসে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল সরকারের ধারণা, দুর্যোগের পর পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বালেন্দ্র শাহ বলেন, রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে নেমে আসা পানির প্রবাহ স্বাভাবিক কোনো বন্যা ছিল না। হিমালয়ের তুষার ও বরফের বড় ধরনের ধসের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মতে, এটি ওই অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ।

দুর্যোগটির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও হিমবাহধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনা হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকির মাত্রা নতুন করে সামনে এনেছে। তাই এ বিষয়ে শুধু নেপাল নয়, পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপাল যেসব বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সময় এসেছে। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনে নেপালের অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব দেশটিকে বড় মাত্রায় মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

হিমালয় ও হিন্দুকুশ অঞ্চলের হিমবাহ কোটি কোটি মানুষের পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসব হিমবাহ থেকে উৎপন্ন পানি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ নদী অববাহিকার মানুষের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

জাতিসংঘও এর আগে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। সাম্প্রতিক দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক কর্মকর্তারাও পাহাড়ি পরিবেশের ভঙ্গুরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এরই মধ্যে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা নেপালকে ভয়াবহ এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে হচ্ছে। দেশটির জন্য এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।