বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত অন্তত ১০

>> গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে যেভাবে প্রাণ হারান তৌফিক

>> গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে তিন পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের অভিযোগ

>> নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে ফের উত্তেজনা, টিয়ার শেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ; গ্রেপ্তার ৫

>> ফতুল্লায় ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাসে অসুস্থ তরুণী

>> হেমায়েতপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ওসি ও সাংবাদিক আহত; থমথমে পরিস্থিতি

>> ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুরে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ

>> গাজীপুরে ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

>> হেমায়েতপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাভার-আশুলিয়ায় দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

>> গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ২৫ প্লাটুন বিজিবি-এসআরবি-আনসার মোতায়েন

আপনি পড়ছেন : গাজীপুর

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে যেভাবে প্রাণ হারান তৌফিক


Sifat Islam Sohag ৪ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২৭



গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে যেভাবে প্রাণ হারান তৌফিক


গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে একটি পোশাক কারখানার ভাড়া করা লোকজনের মারধরে শ্রমিক মো. তৌফিক হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী মো. সাব্বির হোসেন। বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের হামলায় তৌফিক নিহত হয়েছেন—এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সাব্বিরের দাবি, দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নয়, বরং কারখানার ভাড়া করা লোকজনের মারধরেই গুরুতর আহত হন তৌফিক। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে মারা যান তৌফিক। এর আগের দিন সোমবার গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় সংঘর্ষের মধ্যে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সময় তৌফিকের সঙ্গে ছিলেন বন্ধু ও সহকর্মী সাব্বির হোসেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে কালবেলা অনলাইনকে তিনি জানান, তৌফিকের কাছে কোনো স্মার্টফোন ছিল না; তাঁর সঙ্গে ছিল শুধু একটি বাটন ফোন। তাই বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন সাব্বির।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাব্বির বলেন, দুপুরে তাঁরা বাসায় গিয়ে খাবার খেয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। একটি পোশাক কারখানার সামনে পৌঁছানোর পর দেখতে পান, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। তাঁর দাবি, কারখানার মালিক বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করতে কিছু লোক নিয়োগ করেছিলেন। ওই লোকজন বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করছিলেন। এ সময় দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান তাঁরা।

সাব্বির আরও জানান, কারখানার ভাড়া করা লোকজন বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করলে তাঁরা দুজন দৌড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি রাস্তার অন্য পাশে চলে গেলেও পেছনে তাকিয়ে তৌফিককে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর অভিযোগ, কারখানার ভাড়া করা লোকজনই তৌফিককে মারধর করেন।

সাব্বিরের দাবি, ওই মারধরের কারণেই তৌফিক গুরুতর আহত হন। তবে তিনি যে কারখানাটির কথা বলেছেন, সেটির নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুল উচ্চারণের কারণে প্রতিষ্ঠানের সঠিক নাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি যাচাই করছে কালবেলা।

তৌফিকের মৃত্যুর কারণ জানতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের সময় নিজেদের কারখানা রক্ষায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক লোকজন নিয়োগ করেছিলেন। এসব ব্যক্তি কারখানার আশপাশে পাহারায় ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, তাঁদের হামলার শিকার হয়েই তৌফিকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছে।