শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ঝিনাইদহে ব্যাগ থেকে ককটেলসদৃশ দুটি বস্তু উদ্ধার

>> রাউজানে গভীর রাতে পিকআপে আগুন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

>> কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় তদবিরের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের আটজন আটক

>> কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন-চিকিৎসকদের হাতাহাতি, মামলা

>> বাদ পড়া শিশুদের জন্য আবারও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি

>> মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরে উদ্বেগ, জড়িতদের শাস্তির দাবি

>> ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার, ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের লংমার্চ ৪ অক্টোবর

>> মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার

>> ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে চীনই কি বেশি সুবিধা পেল?

>> সুন্দরীর জায়গা দখল করছে কাঁকড়াগাছ, সুন্দরবনে কেন বদলাচ্ছে গাছের বিন্যাস

আপনি পড়ছেন : কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন-চিকিৎসকদের হাতাহাতি, মামলা


Rabeya ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৩:৪৩



কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন-চিকিৎসকদের হাতাহাতি, মামলা


কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দুই দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত রোগীর নাম আতিয়ার শেখ (৬৫)। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শাওতা গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর তাঁর ছেলেসহ তিনজনকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আতিয়ার শেখকে স্বজনেরা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে দেখার সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসাসেবা দিতে দেরি হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে স্বজনেরা হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হলে আবারও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার সময় ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক রাজীব মৈত্র বলেন, রোগী ইউনিটে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে দেখা হয়। বুকে ব্যথার কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। তাঁর ভাষ্য, পরিস্থিতি এত দ্রুত ঘটে যে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ খুব কম ছিল।

অন্যদিকে রোগীর এক স্বজন দাবি করেন, আতিয়ার শেখকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম বলেন, রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল এবং ওয়ার্ডে নেওয়ার পর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর দাবি, রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না। রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রেজাউল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও রোগীর স্বজনদের হামলায় আহত হন।

ঘটনার পর হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক আকুল উদ্দিন। তিনি বলেন, বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরে সেগুলো জানানো হবে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।