কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নাশকতার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবিরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের আট নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।
গ্রেপ্তার কৃষক লীগ নেতার নাম হাফিজুর রহমান। তিনি চিথলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি। শুক্রবার রাত দুইটার দিকে চিথলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর থানায় সম্প্রতি নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁর গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে একই সময় চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় যান। পুলিশের দাবি, তাঁরা হাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ ও চাপ দিতে থাকেন।
তদবির করতে থানায় যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চিথলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতের সমর্থক মারুফ, বাশার, মফিজুল প্রামাণিক, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাদল প্রামাণিক। এ ছাড়া বিএনপির কর্মী মেহেরুল ইসলাম এবং একই ইউনিয়নের বিএনপির সমর্থক শহীদুল ইসলামও সেখানে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে ছাড়ার জন্য নিষেধ করার পরও ওই ব্যক্তিরা বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদেরও আটক করা হয়।
ওসি জানান, পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর উভয় পক্ষের নেতাদের জিম্মায় আটজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হাফিজুর রহমানকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।