মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে তাঁর দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত রোববার রাতে উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মো. বশির (২১) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চক গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বশিরের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি জেলা ছাত্রলীগের উপকর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বড় ভাই রবিউল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় বশিরের বাবা মনির হোসেন সোমবার রাতে সিঙ্গাইর থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার রাতে বশির তাঁর বন্ধু সুমনকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন। এ সময় আরেক বন্ধু আকাশ তাঁকে কৌশলে সিঙ্গাইরের ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই আরও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ইটভাটায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি বশিরকে ঘিরে ফেলেন। তাঁদের হাতে রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রড ছিল। একপর্যায়ে তাঁরা বশিরের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার পাশাপাশি দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়।
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন বশিরকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বশিরের বড় ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তবে কী কারণে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা তাঁরা জানেন না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বশিরের শারীরিক অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।
বশিরের বাবা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামিরা আহত তরুণের পরিচিত ও বন্ধু। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।