কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নে কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে নলকোলা গ্রামের মোড়ে কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, এতে কৃষক দলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যার পর কৃষক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী কার্যালয়ে বসে দলীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন সেখানে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। হামলাকারীরা নেতা-কর্মীদের মারধর এবং কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কার্যালয়ে থাকা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিও ভাঙচুর করা হয়েছে।
পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, রুহুল আমিনের নেতৃত্বেই কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলায় কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি রুহুল আমিনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মঙ্গলবার তাঁরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরেন। এরপরই কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
কার্যালয়ে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাড়ির একটি পাটের গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রুহুল আমিনসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার জানান, কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলা হলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।