মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ওসমানী উদ্যানের অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন, প্রতিমন্ত্রী বললেন—‘পৃথিবীর কোথাও এমন দেখিনি’

>> ছেলের পর বাবাও খুন, আতঙ্কে পরিবার—‘মামলা করব না, পুলিশ যা করার করবে’

>> পটুয়াখালীতে বনের গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ, বন বিভাগের জিডি

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪২, মুচলেকায় মুক্ত

>> ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা আইভ্যাকের

>> ফেসবুক পোস্টের জন্য মৃত্যুদণ্ড, ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের

>> আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়

>> কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

>> বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, ৯ এলাকায় বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর

>> ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকর, সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনে সম্মত তুরস্ক ও পাকিস্তান

আপনি পড়ছেন : খুলনা

ছেলের পর বাবাও খুন, আতঙ্কে পরিবার—‘মামলা করব না, পুলিশ যা করার করবে’


Sifat Islam Sohag ৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫১



ছেলের পর বাবাও খুন, আতঙ্কে পরিবার—‘মামলা করব না, পুলিশ যা করার করবে’


খুলনার রূপসায় ছেলেকে হত্যার প্রায় দেড় মাসের মাথায় গুলিতে প্রাণ গেল বাবা আক্তার ঢালীর। পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে পরিবারটি। নতুন করে কোনো মামলা করতে চান না নিহতের স্বজনেরা। তাঁদের বক্তব্য, আগের মামলাকে কেন্দ্র করে চাপ ও হুমকির কারণে তাঁরা আর কোনো ঝামেলায় যেতে চান না। পুরো বিষয়টি পুলিশের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয় আক্তার ঢালীকে। এর প্রায় দেড় মাস আগে একই এলাকায় তাঁর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।

স্বজনদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের ধারণা, জয় ঢালী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আক্তার ঢালী হত্যার কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, খুলনায় ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাঁরা কারও বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ বা নতুন মামলা করতে রাজি নন।

নিহত আক্তার ঢালীর ভাতিজা লিটু ঢালী বলেন, আগের মামলায় আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। এ কারণে পরিবারটি আর নতুন করে আইনি ঝামেলায় যেতে চায় না। তাঁর ভাষায়, ‘যা পারে এবার পুলিশ করবে, আমরা মামলা করব না।’

গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে জয় ঢালীকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁর মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পান বলে পরিবারের দাবি।

খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, জয় ঢালী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে যারা জামিনে রয়েছেন এবং জামিনের পর হুমকির অভিযোগ—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নতুন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত থাকতে পারে এবং কতজন অংশ নিয়েছিল, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে আক্তার ঢালী হত্যার সঙ্গে আগের হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। ‘বি কোম্পানি’র সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে আক্তার ঢালীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনদের একজন জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে শিশুরাও রাতে আতঙ্কে ঘুমাচ্ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দার বর্ণনা অনুযায়ী, আক্তার ঢালীকে গুলি করার আগে এলাকায় কয়েকটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শোনা যায় এবং পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্তার ঢালী সেনের বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাজ করতেন। ঘটনার দিন দুপুরের পর বাড়িতে ফিরে প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি কাঠের বেঞ্চে বসেছিলেন। স্ত্রীকে মশার কয়েল জ্বালানোর জন্য ঘরে পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে গুলি করা হয়। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে বাড়ির দিকেও গুলি ছোড়ে।

নাসিমা বেগম জানান, ছেলে হত্যার মামলা নিয়ে তাঁর স্বামী বেশ কিছুদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি পাওয়ার কথাও তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সেনের বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি আক্তার ঢালীকে ডেকে রাস্তার পাশে নিয়ে যান। সেখানে জয় ঢালী হত্যার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন আক্তার ঢালী। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, জয় ঢালী হত্যা মামলার কয়েকজন আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

এখন সেই অভিযোগের পরই আক্তার ঢালীর হত্যাকাণ্ডে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ছেলের হত্যার মামলার সঙ্গে কি বাবার হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? পুলিশ বলছে, সব সম্ভাবনা সামনে রেখেই তদন্ত চলছে।