বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪২

>> যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি সর্বোচ্চ, তবে কমেনি বিশ্ববাজারের দাম

>> বাবার অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র, পরে মিলল ব্যাটারিবিহীন রিকশা

>> রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে আটকে আছে ৭ ইসলামী দলের ঐক্য

>> কোমরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৭ কোটি টাকার স্বর্ণ, যুবক গ্রেপ্তার

>> মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

>> চট্টগ্রামে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে হত্যা, আটক ৫

>> মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

>> একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সরকার

>> পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপনি পড়ছেন : রাজশাহী

রাজশাহীতে জুয়েলার্সে চুরি: আড়াই মাস পর ২৬ ভরি সোনা ও ২৫ লাখ টাকাসহ ৮ জন গ্রেপ্তার


Rabeya ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩১



রাজশাহীতে জুয়েলার্সে চুরি: আড়াই মাস পর ২৬ ভরি সোনা ও ২৫ লাখ টাকাসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে জুয়েলার্সে চুরি: আড়াই মাস পর ২৬ ভরি সোনা ও ২৫ লাখ টাকাসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

রাজশাহীর সাহেববাজারে ‘কারুশ্রী জুয়েলার্সে’ চুরির ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্য এবং চোরাই সোনা কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ২৬ ভরি সোনা, ৬২ ভরি রুপা এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চুরির কয়েক মাস আগে থেকেই চক্রটি সাহেববাজার এলাকায় যাতায়াত শুরু করে। কখনো ব্যবসায়ী আবার কখনো ক্রেতার পরিচয়ে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে তারা জুয়েলার্সসহ আশপাশের এলাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। পাশাপাশি দোকানে প্রবেশ এবং পালানোর সম্ভাব্য পথও তারা আগে থেকেই নির্ধারণ করে নেয়।

গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে অবস্থান নেয়। পরে পাশের আফিয়া জুয়েলার্সের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তারা। এরপর ওই দোকানের দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে চুরি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই ঘটনায় প্রায় ২০০ ভরি সোনা, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা এবং ২৫ লাখ টাকা খোয়া যায়। পরদিন জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসিটিভি বিশ্লেষণকারী দল কাজ শুরু করে। প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, চক্রটি খুব সতর্কভাবে নিজেদের যোগাযোগ পরিচালনা করত। একটি মোবাইল ফোন সাধারণত একবারের বেশি ব্যবহার করত না তারা। অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করায় প্রকৃত সদস্যদের শনাক্ত করাও কঠিন ছিল। চক্রটি কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান না করে নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করত।

তদন্তে আরও জানা যায়, বড় ধরনের চুরির আগে তারা প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে নির্দিষ্ট এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করত। বছরে এক থেকে দুটি বড় চুরির সঙ্গে তারা জড়িত বলে পুলিশের ধারণা।

তদন্তের একপর্যায়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা থেকে রুস্তম আলী শেখ নামের ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন স্বপন, উজ্জ্বল, রিয়াজ, ইউনুস, আবু তালেব ও কালাম শেখ।

পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই সোনা কেনার অভিযোগে চাঁদপুরের কচুয়া এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিউলের কাছ থেকেই ২৬ ভরি সোনা, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই সোনা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।