রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের আড়ালে এমএলএমের অভিযোগ, শত কোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে দিশেহারা গ্রাহকরা

>> ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, বরখাস্ত মহিউদ্দিনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

>> সড়ক দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকতে যে দোয়া ও আমল করবেন

>> বিলাসী জীবন যখন সমাজের অবক্ষয় ডেকে আনে

>> রিজভীর সঙ্গে প্রেম-বিয়ের দাবি নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর

>> কেন ৮ আগস্ট মেসির জীবনে এত বেদনার, কী ঘটেছিল এই দিনে?

>> এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কাল, যেভাবে জানা যাবে

>> কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

>> বিআরটিএতে দালালচক্রের দাপট? টাইগার আইটির আল-আমিনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ

>> শাস্তির পরও মাদারীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের আড়ালে এমএলএমের অভিযোগ, শত কোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে দিশেহারা গ্রাহকরা


Sheikh Mojahidur Rahman ৯ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৮
অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের আড়ালে এমএলএমের অভিযোগ, শত কোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে দিশেহারা গ্রাহকরা


নরসিংদীর শিবপুরে ‘অ্যাগ্রো ট্যুরিজম’ প্রকল্পের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহের পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ডায়মন্ড রিসোর্ট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় মুনাফার প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও বর্তমানে লভ্যাংশ তো নয়ই, অনেকেই নিজেদের মূলধন ফেরত পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন সদস্য যুক্ত করার বিনিময়ে কমিশন ও বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। ফলে প্রকৃত ব্যবসার চেয়ে নতুন বিনিয়োগকারী সংগ্রহের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো বলে তারা দাবি করেছেন।

উদ্যোক্তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামছুল আলম সজল। ভুক্তভোগীদের দাবি, এমএলএম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

নারী বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের অভিযোগ, সালমা আক্তার (মনি) নামের এক নারীও বিনিয়োগ সংগ্রহে সক্রিয় ছিলেন। তার মাধ্যমে অনেক নারী এই প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এসব বিনিয়োগকারীর অনেকেই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

কয়েক লাখ টাকার প্যাকেজ

বিনিয়োগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্যাকেজের মূল্য ছিল ৩ লাখ, ৬ লাখ এবং ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব প্যাকেজের বিপরীতে নিয়মিত মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

শুরুতে কিছু বিনিয়োগকারী নির্ধারিত হারে অর্থ পেয়েছেন বলে জানা গেলেও পরবর্তীতে সেই অর্থপ্রদান বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলধন ফেরতের জন্য যোগাযোগ করেও অনেকে সন্তোষজনক সমাধান পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।

রিসোর্ট প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শিবপুরের কামারগাঁও এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর আধুনিক রিসোর্ট ও কৃষি পর্যটন প্রকল্প গড়ে তোলার কথা প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিনিয়োগকারীদের একাংশের দাবি, প্রচারিত জমির মালিকানা ও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে তারা এখনো পরিষ্কার তথ্য পাননি। তাদের আরও অভিযোগ, প্রকল্পের সম্ভাব্য অবকাঠামোর কম্পিউটার-নির্মিত ছবি ও প্রচারণামূলক উপকরণ দেখিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়েছে।

গুলশানের কার্যালয় নিয়েও অভিযোগ

একাধিক বিনিয়োগকারীর দাবি, ঢাকার গুলশানের পুলিশ প্লাজায় প্রতিষ্ঠানের একটি কার্যালয় থেকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। তবে সেখানে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেক সময় কার্যালয় বন্ধ পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছেন।

একই ভবনের একটি মার্কেটে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে ‘সেনকো গোল্ড’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার কথাও জানা গেছে। ওই ব্যবসাকে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিনিয়োগকারীর ক্ষোভ

এক ভুক্তভোগী বলেন, উচ্চ মুনাফার আশায় নিজের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে লভ্যাংশ পাওয়া তো দূরের কথা, মূল অর্থ ফেরত পাবেন কি না—তা নিয়েই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

আরেক বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, অর্থ ফেরতের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে নানা ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডায়মন্ড রিসোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামছুল আলম সজলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ভোক্তা অধিকার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিবন্ধন, প্রকল্পের জমির মালিকানা, চুক্তির শর্ত, আর্থিক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের আয় বা কমিশন ব্যবস্থা যদি নতুন সদস্য সংগ্রহের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়, তাহলে বিনিয়োগের আগে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।