বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাদারীপুর সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক সামসুদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে আবারও ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির নজির থাকলেও বর্তমানে নতুন করে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি মাদারীপুর সদর উপজেলার আলীর বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি মোটরযান পরিদর্শক সামসুদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, নিয়মের বাইরে অর্থ আদায় এবং যানবাহনের ফিটনেস সনদ দিতে গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ আনেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সামসুদ্দীন আহমেদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে বিভিন্ন সম্পদ, জমি-বাড়ি, ফ্ল্যাট ও যানবাহনের মালিক হওয়ার বিষয়েও তার কাছে তথ্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের অভিযোগের পক্ষে লিখিত অভিযোগের সঙ্গে কোনো দলিল বা নির্দিষ্ট প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়নি বলে জানা গেছে।
নতুন অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তদন্ত ও শৃঙ্খলা শাখা থেকে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে তদন্তের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, সামসুদ্দীন আহমেদ এর আগে ঢাকা মেট্রো-৮ সার্কেলে দায়িত্ব পালন করার সময়ও অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন। ২০২০ সালে একটি সংবাদ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করা হয়।
তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে। তদন্তে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং কর্তৃপক্ষের আইনসঙ্গত নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর তাকে মাদারীপুর সার্কেলে বদলি করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ২৫/২০২৩ দায়ের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর বিআরটিএর তৎকালীন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্তে মোটরযান পরিদর্শন ছাড়াই ফিটনেস সনদ দেওয়া, নির্ধারিত পরিদর্শন ফি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং মোটরযানের উপযুক্ততা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার মতো অভিযোগ উঠে আসে।
তদন্তের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বিআরটিএর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার শাস্তি দেওয়া হয়। এই শাস্তি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগেও মাদারীপুর বিআরটিএ সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
ফলে একই কর্মকর্তাকে ঘিরে পুরোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং নতুন করে ওঠা অভিযোগ—দুই বিষয়ই এখন আলোচনায় এসেছে।
তবে সামসুদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা বর্তমান অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে প্রতিবেদনের ভারসাম্য বজায় রাখতে তা প্রকাশ করা হবে।