আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে বুধবার পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেখানে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন কম রয়েছে। এর ফলে পুলিশের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির অনুষ্ঠানে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনে একই এলাকার একাধিক প্রার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সংঘাতের ঝুঁকি বেশি থাকে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীর কাজে প্রায় ১৬ হাজার ১৬৯টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতায় পুলিশের অনেক স্থাপনা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময়ে ১ হাজার ৭৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৫৫টি গাড়ি ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ৬২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালেও পুলিশের আরও ১ হাজার ৩৬৯টি যানবাহন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামের ঘাটতি পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় পুলিশের স্থাপনা, যানবাহন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জামের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনও।
তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিও প্রার্থী হন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিসিটিভি, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিং আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন সিইসি।
নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।