মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

>> দাম্পত্যের টানাপোড়েন, যৌনতা আর অস্বস্তিকর এক ডিনার পার্টির গল্প

>> যুক্তরাজ্যে হাজারো যৌন অপরাধীকে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমানোর ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনা

>> এআই মডেলের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করছে ওপেনএআই

>> প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গণ–অনশন, আন্দোলনকারীদের পাশে এমপি

>> মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে জোর বাংলাদেশের

>> সরকারের গুদামে সার আছে, সংকট বিতরণে

>> ফরিদপুর পৌরসভার উন্নয়নে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আয়মান হোসেন অপু

>> ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ স্লিপার বাসের নিবন্ধন: বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা

>> ওসি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর গাড়ি আটকে আড়াই কোটি টাকার মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগ বিএনপি নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধে

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

পাইপলাইনে মিয়ানমারের গ্যাস: কতটা বাস্তব, কতটা সম্ভাবনা?


৪ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:১৮



পাইপলাইনে মিয়ানমারের গ্যাস: কতটা বাস্তব, কতটা সম্ভাবনা?

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাস সংকট কাটাতে সরকার নতুন নতুন উৎস খুঁজছে। এলএনজি আমদানির পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আনার সম্ভাবনা। সম্প্রতি দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

বর্তমানে কত পরিমাণ গ্যাস বাংলাদেশ পেতে পারে, কোন গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ আসবে, পাইপলাইনের রুট কী হবে, নির্মাণ ব্যয় কত হবে কিংবা নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো চূড়ান্ত উত্তর এখনো নেই।

মিয়ানমারের গ্যাসের প্রমাণিত মজুত উল্লেখযোগ্য হলেও দেশটির উৎপাদন আগের তুলনায় কমে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় জ্বালানি খাতও চাপে রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির উৎপাদিত গ্যাসের বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চীন ও থাইল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনতে হলে শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে। সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব প্রকল্পটির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্থলপথে পাইপলাইন নির্মাণ নিরাপদ হবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

বিকল্প হিসেবে এলএনজি আমদানির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে গ্যাস তরলীকরণ, জাহাজে পরিবহন এবং বাংলাদেশে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হবে। এছাড়া মিয়ানমারের পর্যাপ্ত এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইনের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় তিন দশক আগে প্রথম এ ধরনের উদ্যোগের আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বাংলাদেশ নিজস্ব প্রয়োজনেই নতুন করে বিষয়টি বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে দেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করলেও এখনও ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় সংকট আরও বেড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমার ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাব্য গ্যাসের উৎস হতে পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গ্যাসের প্রাপ্যতা, মূল্য, পরিবহনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আনার পরিকল্পনা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের গ্যাস সংকটের সমাধান নয়। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনুকূলে থাকলে এটি ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।