মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সান্ধ্য আইন: নিরাপত্তার নামে ছাত্রীদের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ?

>> তিন মাস পর খুলল সুন্দরবন, জেলেদের আগ্রহ কম—পর্যটকে ফিরছে প্রাণ

>> ঘুম থেকে তুলে নিয়ে টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি

>> বেতন বাড়ার সুযোগে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ানোর আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের

>> ‘পাপ কামিয়েছি’—ভাইরাল বক্তব্যটি নিজের নয়, জানালেন চিত্রনায়িকা পপি

>> ‘পুলিশ এখনো আসামিদের ধরতে পারেনি, থানায় গেলে শুধু বলে তদন্ত চলছে’

>> বরযাত্রীর গাড়ি থেকে তুলে নেওয়া নববধূর ভিডিও ভাইরাল, বললেন—‘আইছি তো আইছিই, এনেই থাকবাম’

>> আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি এবার কার গায়ে?

>> একাদশে ভর্তি: মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষা কোটায় আবেদনে যোগ্যতার বিষয়ে সতর্কতা

>> প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও মার্কিন উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে যা বললেন হুমায়ুন কবির

আপনি পড়ছেন : ময়মনসিংহ

‘পুলিশ এখনো আসামিদের ধরতে পারেনি, থানায় গেলে শুধু বলে তদন্ত চলছে’


Rabeya ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:০৪



‘পুলিশ এখনো আসামিদের ধরতে পারেনি, থানায় গেলে শুধু বলে তদন্ত চলছে’


ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলায় নিহত আশরাফুল আলম ওরফে রবিন হত্যার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার কারণ ও জড়িত অন্যদের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

নিহত আশরাফুল আলমের বয়স ছিল ২৩ বছর। তিনি গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন ও শান্তা আক্তারের ছেলে। গত ৮ জুন দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাত ১২টা ১ মিনিটে গফরগাঁও ডাকবাংলো চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে নিজের ২৩তম জন্মদিনের কেক কাটেন আশরাফুল। পরে রাত পৌনে একটার দিকে বন্ধু শাকিবুল হাসানের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

শিলাসী মাজার রোড এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় তাঁদের চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়। শাকিবুল কোনোভাবে পালিয়ে যেতে পারলেও আশরাফুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলায় তাঁর বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সোয়া তিনটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দুই দিন পর, ১০ জুন আশরাফুলের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে সন্দেহভাজন হিসেবে কলেজ রোড এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে মো. রাজিবকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তবে এরপর আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

নিহতের বাবা মোফাজ্জল হোসেনের দাবি, ২০২১ সালে স্থানীয় একটি ফুটবল খেলা নিয়ে রাজিবের সঙ্গে আশরাফুল ও তাঁর বন্ধুদের বিরোধ হয়েছিল। সেই পুরোনো বিরোধের জের ধরেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমার শেষ বয়সের একমাত্র ভরসা ছিল ছেলে। পুলিশ খালি কয় কাজ করতাছে। আমার ছেলেরে কারা কী কারণে মারল, তা এখনো জানতে পারলাম না।’

নিহতের সঙ্গে হামলার সময় থাকা বন্ধু শাকিবুলের খোঁজ নিতে তাঁর বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা আবদুল মতিন জানান, মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর চার দিন আগে শাকিবুল বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, ঘটনার পরপরই রাজিবকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেও তাঁর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে আশরাফুলের সঙ্গে রাজিবদের পুরোনো বিরোধের বিষয়টি পুলিশও জানে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে অন্য যাঁরা জড়িত, তাঁদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য পরিষ্কার হবে।

তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।