মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনায় ধন্যবাদ

>> ফেসবুক সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে বিআরটিএর সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার

>> বক্তৃতার সম্মোহনী শক্তি সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

>> সান্ধ্য আইন: নিরাপত্তার নামে ছাত্রীদের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ?

>> তিন মাস পর খুলল সুন্দরবন, জেলেদের আগ্রহ কম—পর্যটকে ফিরছে প্রাণ

>> ঘুম থেকে তুলে নিয়ে টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি

>> বেতন বাড়ার সুযোগে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ানোর আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের

>> ‘পাপ কামিয়েছি’—ভাইরাল বক্তব্যটি নিজের নয়, জানালেন চিত্রনায়িকা পপি

>> ‘পুলিশ এখনো আসামিদের ধরতে পারেনি, থানায় গেলে শুধু বলে তদন্ত চলছে’

>> বরযাত্রীর গাড়ি থেকে তুলে নেওয়া নববধূর ভিডিও ভাইরাল, বললেন—‘আইছি তো আইছিই, এনেই থাকবাম’

আপনি পড়ছেন : বান্দরবান

তিন মাস পর খুলল সুন্দরবন, জেলেদের আগ্রহ কম—পর্যটকে ফিরছে প্রাণ


Rabeya ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৭



তিন মাস পর খুলল সুন্দরবন, জেলেদের আগ্রহ কম—পর্যটকে ফিরছে প্রাণ


প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের দ্বার। তবে মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রথম দিনেই বনে প্রবেশে জেলেদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। টানা বৃষ্টি, নদীতে মরা জোয়ার, মাছ কম পাওয়ার আশঙ্কা এবং দস্যুদের ভয়—সব মিলিয়ে অনেক জেলেই গভীর বনে যেতে চাইছেন না। অন্যদিকে সুন্দরবন খুলে দেওয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে।

সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে অনুমতিপত্র নিতে আসা জেলে জহর আলী মালী জানান, সুন্দরবনে এখনো দস্যুদের ভয় রয়েছে। তাই গভীর বনে না গিয়ে স্টেশনের কাছের খোলপেটুয়া নদীতে মাছ ধরার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। দস্যুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বনের ভেতরে বেশি দূরে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চান না এই জেলে।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ৯৫৪টি নৌযানের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র একজন জেলে অনুমতিপত্র নিয়েছেন। সকাল থেকেই বৃষ্টি এবং নদীতে মরা জোয়ার থাকায় মাছ ধরার পরিবেশও অনুকূলে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৈখালী ও কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় রয়েছে মোট ১ হাজার ২৬টি নৌযানের বিএলসি। এর মধ্যে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৭ জন জেলে সুন্দরবনে অবস্থানের অনুমতি নিয়েছেন।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় বনে যেতে না পারায় অনেক জেলে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মাছ ও কাঁকড়া ধরেই যাঁদের সংসার চলে, তাঁদের অনেকেই এখন দ্রুত কাজে ফিরতে চাইছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় বন বিভাগের নজর এড়িয়ে কেউ কেউ বিষ দিয়ে মাছ ধরেছে—এমন অভিযোগও করেছেন জেলেরা। এতে সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ-কাঁকড়ার পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

জেলেরা আরও জানিয়েছেন, সাধারণত একটি নৌকায় দুই থেকে তিনজন করে থাকেন। কয়েক দিন সুন্দরবনে অবস্থান করে মাছ ও কাঁকড়া ধরে তাঁরা ফিরে আসেন। বছরের বড় একটি সময় সুন্দরবননির্ভর এই পেশার ওপর তাঁদের জীবিকা নির্ভর করে।

এদিকে জেলেদের তুলনায় পর্যটকদের মধ্যে সুন্দরবন ভ্রমণের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রথম দিন খুলনা থেকে সাতটি লঞ্চে প্রায় ২২০ জন পর্যটক সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সুন্দরবনসংলগ্ন মালঞ্চ নদী থেকেও পর্যটকদের নিয়ে নৌযান বনে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। স্থানীয় নৌকার মাঝিরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের নির্ধারিত পথ ও আকর্ষণীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখানোর মাধ্যমে তাঁরা আয় করেন।

সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবনে যাওয়া পর্যটকদের কাছে কলাগাছিয়া ও দুবেকী অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। পাশাপাশি করমজল ও হারবাড়িয়াও এক দিনের ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয়। তবে কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য বন বিভাগের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন।

সুন্দরবনের বড় একটি অংশ অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণভাবে মাছ ধরা কিংবা ইচ্ছেমতো প্রবেশের সুযোগ নেই। পর্যটকদেরও নির্ধারিত পর্যটনকেন্দ্র ও অনুমোদিত পথ অনুসরণ করতে হবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পশ্চিম ও পূর্ব বিভাগের চারটি রেঞ্জে এবার প্রায় ১২ হাজার নৌযানকে বিএলসি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক ও জেলেদের পরিবেশবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বনে ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেটসহ কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বন্য প্রাণী ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় পন্টুন মেরামত এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বন বিভাগের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পর্যটক, জেলে এবং বননির্ভর মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।