কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পর এবার তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ওই তরুণীকে একটি কক্ষে বসে নিজের অবস্থান সম্পর্কে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে নববধূর দুই পাশে কয়েকজন নারীকে বসে থাকতে দেখা যায়। কক্ষটির দরজার কাছেও সেই যুবককে দেখা যায়, যাঁর বিরুদ্ধে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওতে নববধূকে বলতে শোনা যায়, তিনি যেভাবেই সেখানে এসে থাকুন না কেন, এখন আর ফিরে যেতে চান না। তাঁর ভাষায়, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হোক, নিজের ইচ্ছায় হোক, যেমনেই হোক, আইছি তো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’
এর আগে গত রোববার রাতে হোসেনপুরে বরযাত্রী বহনকারী একটি মাইক্রোবাস আটকে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় গাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর বরপক্ষ হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ এরপর নববধূর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে নববধূ বর্তমানে কোথায় রয়েছেন এবং তিনি স্বেচ্ছায় ভিডিওটি করেছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, নববধূর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে বরপক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নববধূর ভিডিও বক্তব্যও পুলিশের নজরে এসেছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় কেউ মামলা করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।