মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাস্তা বন্ধ থাকায় ঘর ভেঙে মরদেহ নিয়ে গেলেন এলাকাবাসী

>> নিরাপত্তার কারণে কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার

>> নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, হেনস্তার অভিযোগ

>> এনসিটির ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে গণঅনশন

>> নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, তিতাস কর্মকর্তা আজাদ ও ঠিকাদারদের ঘিরে প্রশ্ন

>> রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে জামায়াতকে ঘিরে রাশেদ খাঁনের অভিযোগ

>> পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি

>> জি এম কাদেরের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবি

>> পরকীয়ার অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

>> ফরিদপুরে বরাদ্দের অর্ধেক সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

নিরাপত্তার কারণে কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার


Sifat Islam Sohag ১৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩০



নিরাপত্তার কারণে কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার


নিজস্ব প্রতিবেদক: নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা আজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের পক্ষে জেরা করবেন তাঁর আইনজীবীরা। তাঁর আইনি লড়াইয়ে রয়েছেন সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ আইনজীবীদের একটি দল।

গত ৮ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। সাক্ষ্যে তিনি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর সেগুলোকে বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরেন।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্তের আশ্রয় নেওয়া হতো। প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে ভুল বা মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাঁকে জেরার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার ১৫তম সাক্ষী রফিকুল ইসলামের জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার ১৪তম সাক্ষী কামরুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। একই দিন র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, সাব্বির রহমান এ মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে আরও ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, বরগুনার বলেশ্বর নদী এবং বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ অভিযোগে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

যে কারণে কারাগারে রেখেই বিচার

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, গত শুনানিতে জিয়াউল আহসানের পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনে তিনি নিজের জীবননাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। নিরাপত্তার কারণে তাঁকে যে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, সেটির পরিবর্তে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদন জানান তিনি।

তামীম বলেন, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি প্রসিকিউশনও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। তবে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদনে আপত্তি জানানো হয়। কারণ, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে ওই ভ্যানে থাকা অন্য বন্দি ও আসামিদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে আনার পরিবর্তে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজির করার প্রস্তাব দেয় প্রসিকিউশন। এ জন্য প্রচলিত আইন ও ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুসরণের আবেদন জানানো হয়।

প্রসিকিউটর আরও জানান, কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়াউল আহসান বিচারকের বক্তব্য, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য এবং প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনতে পারবেন। একইভাবে কারাগার থেকে তাঁর বক্তব্যও ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শুনতে পারবেন।

করোনাকালে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার নজির তুলে ধরে তামীম বলেন, সে সময় প্রচলিত আইনের অধীনে আসামি, সাক্ষী এমনকি বিচারকেরাও ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজির করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে তাঁর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এ পদ্ধতিতেই পরিচালিত হবে।