শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ‘জামায়াতের সেক্রেটারির ৭০০ অটোরিকশা’—ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছে প্রমাণ চাইল জামায়াত

>> চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনা মালিককে মারধরের অভিযোগ, উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি

>> সীতাকুণ্ডে বিদ্যালয়ের পেছনে মিলল হাত-পা বাঁধা নারীর মরদেহ

>> চট্টগ্রাম কাস্টমসে এসি ওমর ফারুক ও আরও সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

>> নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, মাহবুব-উসমান-হেমায়েতকে ঘিরে প্রশ্ন

>> ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

>> সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ

>> মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

>> ট্রাকচালক হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ৩৪ আসামির অভিযোগ গঠন ফের পেছাল

>> হাতকড়া পেছনে রেখে সিঁড়ি দিয়ে আদালতে ওঠানো নিয়ে পলকের আপত্তি

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

‘জামায়াতের সেক্রেটারির ৭০০ অটোরিকশা’—ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছে প্রমাণ চাইল জামায়াত


Sifat Islam Sohag ৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৫৭



‘জামায়াতের সেক্রেটারির ৭০০ অটোরিকশা’—ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছে প্রমাণ চাইল জামায়াত


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চেয়েছে দলটি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে জামায়াত বলেছে, অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে না পারলে তাঁকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। বিবৃতিতে ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

কী বলেছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক?

এর আগে শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘জুলাই গ্রাফিতি রিমেক’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

অটোরিকশা নিয়ে আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে। অটোরিকশাচালকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। তবে বক্তব্যে তিনি সংশ্লিষ্ট নেতার নাম উল্লেখ করেননি।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, জনগণের কাছে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে পার পাওয়া যাবে না।

বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলছে জামায়াত

ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন না করে মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণ নয় বলে মনে করে দলটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনগণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছ থেকে দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি।

অটোরিকশা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত

জামায়াতের বিবৃতি অনুযায়ী, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকার বিষয়গুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা উচিত।

দলটির দাবি, এসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের অবস্থানের বিরোধিতা করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে সমালোচনা করা উচিত নয়।

বিবৃতিতে ডিএনসিসি প্রশাসককে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করার দাবিও জানায় জামায়াত।

অটোরিকশাচালকদের দাবি নিয়ে যা বলেছিলেন গোলাম পরওয়ার

এর আগে গত ৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অটোরিকশাচালকদের দাবির বিষয়ে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছিলেন, অটোরিকশাচালকদের দাবিগুলো সরকারের বিবেচনা করে মেনে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয় কিংবা কেউ উসকানি দেওয়ার সুযোগ পায়—এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কারও উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন

ডিএনসিসি প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অটোরিকশার মালিকানা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তা ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। অন্যদিকে জামায়াতও অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ অবস্থায় অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্ব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।