নারায়ণগঞ্জে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিতাস গ্যাসের স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও একশ্রেণির ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এসব সংযোগের নেটওয়ার্ক। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় অফিস, নারায়ণগঞ্জের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজাদ। তাঁর নিয়ন্ত্রণে একটি চক্র অবৈধ সংযোগের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পরও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানায় সংযোগের জন্য ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং বহুতল আবাসিক ভবনে সংযোগের জন্য ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তিতাসের কিছু কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশে রাতের আঁধারে এসব সংযোগ স্থাপন করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বৈধ রাইজার থেকে একাধিক ফ্ল্যাটে গ্যাসের লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব সংযোগ সচল রাখা এবং নিয়মিত অর্থ আদায়ের সঙ্গে ঠিকাদারদের একটি চক্র জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান সম্পর্কে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সতর্ক করা হয়। ফলে অভিযানে সব অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দরে অভিযানে ১ হাজার ১০০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ৯২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযানের পূর্ণাঙ্গ নথি ও জরিমানার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে সরকারি রাজস্ব ক্ষতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় অফিস, নারায়ণগঞ্জের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজাদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কিসের তথ্য, এমন কোনো ইয়ে নাই, অবৈধ লাইন আছে, আমরা কাটতেছি।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণ ও ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অভিযানসংক্রান্ত নথি এবং স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।