ফরিদপুরের সদরপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার রিক্তা বেগম (২৮) উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে।
রোববার সন্ধ্যায় নির্যাতনের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে নির্যাতনের ঘটনায় সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সুমন স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক গৃহবধূকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তাঁর হাত ধরে আছেন। এ সময় আরেক যুবক কাঁচি দিয়ে ওই নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। ভিডিওতে তাঁকে মারধর করতেও দেখা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে রাতে ওই নারী ও এক যুবককে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা যায়। ওই সময়ও গৃহবধূকে মারধর করা হয় বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত শনিবার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তাঁর কক্ষে এক যুবককে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়রা তাঁদের দুজনকে আটক করেন। পরদিন রোববার বিকেলে ওই গৃহবধূর চুল কেটে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আটক যুবককেও ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য আইন রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ওসি জানান, সোমবার তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযানে রয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।