সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ডেঙ্গুতে এক দিনে রেকর্ড সংক্রমণ, মৃত্যু ৮

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল তারুণ্য

>> এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরিতে কত পানি খরচ হয়?

>> আগামীকাল রাত থেকে শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

>> দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

>> মানিকগঞ্জে সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

>> সহপাঠীর বাবার বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, ঘরের মেঝেতে মরদেহ পুঁতে রাখার দাবি

>> কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত বাংলাদেশের দুই সিনেমা

>> হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা

>> নতুন লিফটের ব্যবস্থা করার দাবি ডাকসুর, ডিন বললেন ‘মিথ্যাচার’

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

বিয়ের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না চারজনের


Rabeya ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:১৮



বিয়ের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না চারজনের


বিয়ের অনুষ্ঠানে কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল হাসি-আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা একসঙ্গে ছবি তুলেছেন, গল্প করেছেন, খাওয়া-দাওয়া করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন, তখনও কেউ ভাবেননি এই যাত্রা এতটা মর্মান্তিক হয়ে উঠবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন। আহত হয়েছেন আরও চারজন।

শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কনেপক্ষের সদস্যদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসকে একটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

নিহতরা হলেন মোরশেদ নেওয়াজ মেহেদী (২৬), তাঁর বোন কলেজছাত্রী জাছিয়া ইসমে মিমতা (২০), তাঁদের মামা ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক হাছান মোহাম্মদ মুন্না (৪২)। নিহত ও আহত সবাই কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় মোরশেদ ও মিমতার বাবা মনজুর আলম, মা নীলুফা ইয়াছমিন এবং স্বজন আবুল কালাম ও আরফা বেগম আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মনজুর আলম ও নীলুফা ইয়াছমিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবুল কালামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আরফা বেগমকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আহত সবার অবস্থাই গুরুতর।

পরিবারের বড় মেয়ে তাম্মিন ফায়েছা ফাহিমের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের একটি রেস্তোরাঁয়। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কক্সবাজার থেকে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা চট্টগ্রামে এসেছিলেন। বিয়ের পুরো আয়োজনেই ছিল উৎসবের পরিবেশ। সবাই মিলে ছবি তোলেন, আড্ডা দেন এবং আনন্দে সময় কাটান।

অনুষ্ঠান শেষে মধ্যরাতে কয়েকটি গাড়িতে করে তাঁরা কক্সবাজারের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে একটি গাড়ি জ্বালানি নেওয়ার জন্য থামলে অন্য গাড়িগুলো কিছুটা এগিয়ে যায়। পরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনার খবর পান স্বজনেরা।

নিহতদের মামা আজিজুল হক জানান, খবর পাওয়ার পর গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। মাইক্রোবাসের সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গিয়েছিল এবং কাচ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পেরিয়ে ভোরে জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ আহত স্বজনের চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছিলেন, আবার কেউ প্রিয়জন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন।

হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত চারজনের মরদেহ কক্সবাজারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে পরিবারটি বিয়ের আনন্দে একসঙ্গে ছিল, সেই পরিবারই এখন চার স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছে।

একটি নতুন সম্পর্কের সূচনা উদ্‌যাপন করতে এসে পরিবারটির আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। যে যাত্রা ছিল বিয়ের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার, সেটিই চারজনের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে রইল।