কুমিল্লার মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন কমান্ডারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আলী হোসেন। তিনি মেঘনা উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি।
অভিযোগে আলী হোসেন উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলার সময় রমিজ উদ্দিন তাঁকে ধমক দেন এবং সভায় কে তাঁকে আসতে বলেছেন, তা জানতে চান।
আলী হোসেনের অভিযোগ, সভা শেষে এ বিষয়ে কথা বলতে ইউএনও মৌসুমী আক্তারের কক্ষে গেলে সেখানে ইউএনও, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম ও কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রমিজ উদ্দিন তাঁর গলা চেপে ধরেন এবং এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে রমিজ উদ্দিনকে সহযোগিতা না করায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আলী হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁকে গালমন্দ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে আলী হোসেন নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিনের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করেননি বলে জানিয়েছেন আলী হোসেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে সঠিক তথ্য প্রচার করা উচিত। এ বিষয়ে সাক্ষী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর দাবি, আলী হোসেনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলেও মারধরের অভিযোগটি সাজানো নাটক।
ইউএনও মৌসুমী আক্তার বলেন, তাঁর কার্যালয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে তাঁর সামনে মারামারি বা শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে ওসির উপস্থিতিতে দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
একই বক্তব্য দিয়েছেন মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম।
তাঁদের বক্তব্যের বিষয়ে আলী হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে তাঁর পরিচিত কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা সবাই রমিজ উদ্দিনের লোকজন ছিলেন। এ কারণে তিনি মারধরের শিকার হলেও কেউ প্রতিবাদ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজহারুল হক শাহীন, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সী, শাহাবুদ্দিন ও মাসরুল হক সরকারসহ মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল ও দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।