সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বাস্তবতা

>> অপ্রতিম হত্যার পর আতঙ্কিত অভিভাবকেরা, শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

>> দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলের শাস্তির দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ

>> নারায়ণগঞ্জে লোকালয়ে কুমির, কীভাবে এল জানেন না কেউ

>> ‘বন্ধুর লাশ নিয়ে হাসপাতালে আছি, সে আর ফোন ধরবে না’

>> গরমে শ্রমিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, চার বছরেই উঠে আসতে পারে খরচ

>> জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

>> লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পাম্পে ভিড়, ক্ষোভ গ্রাহকদের

>> ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে চায় সংবিধান সংশোধন কমিটি: সালাহউদ্দিন আহমদ

>> কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

আপনি পড়ছেন : কুমিল্লা

অপ্রতিম হত্যার পর আতঙ্কিত অভিভাবকেরা, শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ


২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:১৬



অপ্রতিম হত্যার পর আতঙ্কিত অভিভাবকেরা, শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ


কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। অনেকেই এখন সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কখন বাড়ি ফিরছে—এসব বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার কথা বলছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে ইকবাল আহমেদ নামের এক বাবা নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানতে চেয়েছেন, শিশুদের শরীর, হাতঘড়ি বা অন্য কোনো উপায়ে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা যায় কি না। তাঁর পোস্টে অনেক অভিভাবক একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

কেউ শিশুর স্মার্টওয়াচে ট্র্যাকার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, আবার কেউ স্কুলের পোশাক, ব্যাগ বা জুতায় আলাদা ট্র্যাকার লাগানোর কথা বলেছেন। তবে কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দামি স্মার্টওয়াচ বা ডিভাইসও শিশুকে অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

অপ্রতিম গত শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিম কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাবা মোবাইল অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। পরে আইফোন নিয়ে আসামিরা চলে যায়।

এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবার করা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন কিশোর। আরও একজন তরুণের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তার চলাফেরা, বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ও অনলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নিখোঁজ বা হত্যার ঘটনায় শুধু পরিবারের ওপর দায় চাপানো যথেষ্ট নয়; শিশুর নিরাপত্তায় পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সব পক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, পরিচিত ও অপরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে শিশুরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই শুধু পরিবার কতটা নিরাপত্তা দিতে পারছে, সেই প্রশ্নে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে শিশু নিখোঁজের ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা, তাদের বন্ধু ও চলাফেরা সম্পর্কে বয়স উপযোগী নজর রাখা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।