কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরীর পিটিআই মাঠসংলগ্ন ‘নীলি কটেজ’ নামের একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মা-মেয়ের দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এটি হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে মাথায় টুপি ও পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, তাঁকে বেলা ১১টা ২২ মিনিটে একবার বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়, তবে ১২ মিনিট পরই তিনি আবার প্রবেশ করেন। এরপর বেলা ১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে আর বের হতে দেখা যায়নি।
নিহতের বড় ছেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে দরজা খোলা দেখতে পান। তিনি ঘরে ঢুকে তাঁর মা তাহমিনা বেগম ও ছোট বোন সুমাইয়া আফরিনকে খাটে শুয়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু তিনি তাঁদের কোনো নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে ছোট ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করেন। তাঁর ভাই কুমিল্লা ইপিজেড থেকে ফেরার পর দুজন মিলে কাছে গিয়ে দেখেন, তাঁরা দুজনেই মৃত।
নিহত সুমাইয়া আফরিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।নীলি কটেজ নামক বাড়ির মালিক আমিরুল ইসলাম রানা জানান, নিহতদের পরিবার আদালতের সাবেক হিসাবরক্ষক মরহুম নুরুল ইসলামের। চার বছর আগে তিনি নীলি কটেজে এই ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। তিনি গত বছর মারা যান। বর্তমানে স্ত্রী, দুই ছেলে, তাঁদের স্ত্রী এবং এক মেয়ে ওই বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রী বাইরে ছিলেন। রাতে তাঁরা বাসায় ফিরে মা ও বোনের মরদেহ দেখতে পান।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি রহস্যজনক ঘটনা। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ সব আলামত সংগ্রহ করেছি। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। তদন্ত চলছে।’