যৌনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য ও মানসিক জটিলতার গল্প নিয়ে নির্মিত পরিচালক গ্রেগ আরাকির নতুন ইরোটিক থ্রিলার ‘আই ওয়ান্ট ইয়োর সেক্স’ মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষ করে ছবির অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো কীভাবে নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন ছবির ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর ইয়েহুদা ডুয়েনিয়াস।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ছবির প্রিমিয়ারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় অভিনেতা অলিভিয়া ওয়াইল্ড ও কুপার হফম্যান প্রতিটি দৃশ্যের আগে একটি ‘পেইন স্কেল’ বা ব্যথার মাত্রা নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। ১ থেকে ১০ পর্যন্ত এই স্কেলের মাধ্যমে কোন দৃশ্যে কতটা শারীরিক চাপ বা অভিনয় প্রয়োজন, তা আগেই নির্ধারণ করা হতো।
ডুয়েনিয়াসের ভাষ্য, এই পদ্ধতির ফলে অভিনেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে দৃশ্যগুলো বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
ছবিতে কুপার হফম্যান অভিনয় করেছেন সদ্য কলেজ শেষ করা এলিয়ট চরিত্রে, যিনি প্রভাবশালী গ্যালারিমালিক এরিকা ট্রেসি—অলিভিয়া ওয়াইল্ড অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে জটিল সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এটি কুপারের ক্যারিয়ারের প্রথম অন্তরঙ্গ দৃশ্যভিত্তিক অভিনয়ের অভিজ্ঞতা।
অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কুপার বলেন, শুরুতে তিনি বেশ অস্বস্তি ও ভয় অনুভব করেছিলেন। তবে নতুন ধরনের কাজ করতে গেলে সেই ভয় কাটিয়ে ওঠাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
ডুয়েনিয়াস জানান, কুপার প্রথম থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন কাজটি সহজ হবে না। তবুও তিনি প্রতিটি দৃশ্য আরও ভালোভাবে উপস্থাপনের জন্য আগ্রহ নিয়ে কাজ করেছেন এবং নিয়মিত পরামর্শ নিয়েছেন।
পরিচালক গ্রেগ আরাকি সাহসী বিষয়বস্তুর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। তবে এবারই প্রথম তিনি একজন ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন SAG-AFTRA এই পেশাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর হলিউডে এ ধরনের সমন্বয়কারীর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডুয়েনিয়াসের মতে, একজন ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব অনেকটাই স্টান্ট সমন্বয়কারীর মতো। যেমন অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়, তেমনি অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রেও প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করা হয়, যাতে অভিনয়শিল্পীরা স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার মধ্যে কাজ করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, ছবির সবচেয়ে জটিল দৃশ্য ছিল তিনজন চরিত্রকে নিয়ে ধারণ করা একটি সিকোয়েন্স। বিভিন্ন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, শিল্পীদের অবস্থান এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো সমন্বয় করতে ওই দৃশ্যের শুটিংয়ে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয়েছে।
ডুয়েনিয়াসের মতে, পরিচালক গ্রেগ আরাকির লক্ষ্য শুধু একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ নয়; বরং সম্পর্ক, যৌনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের সূচনা করা।