২০২১ সালের ৮ আগস্ট প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনাকে বিদায় বলতে হয়েছিল মেসিকে। কয়েক বছর পর একই তারিখে তিনি হারান তার বাবা হোর্হে মেসিকে। ফলে দুটি ভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া বড় ধাক্কার স্মৃতি একই দিনে এসে মিশেছে আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তির জীবনে।
২০২১ সালের আগস্টে মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার খবর বিশ্ব ফুটবলকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ৫ আগস্ট ক্লাবটি জানায়, আর্থিক সংকট এবং লা লিগার নির্ধারিত নিয়মের কারণে মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর তিন দিন পর, ৮ আগস্ট ক্যাম্প ন্যুতে সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিদায়ের কথা জানান মেসি। দীর্ঘদিনের প্রিয় ক্লাব ছাড়ার কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়া মেসির সেই দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও গেঁথে আছে।
বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে ২০০৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছর খেলেছেন মেসি। ক্লাবটির একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে এসে তিনি বার্সার ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। তাই তার বিদায় ছিল কেবল একটি ক্লাব বদলের ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।
বার্সেলোনা ছাড়ার স্মৃতি পেরিয়ে মেসির জীবনে আসে আরও বড় ব্যক্তিগত আঘাত। ৬৮ বছর বয়সে মারা যান তার বাবা হোর্হে মেসি।
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে বাবার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলায় মেসির শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া থেকে শুরু করে তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে পাশে ছিলেন হোর্হে। পরবর্তীতে তিনি মেসির এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন এবং মাঠের বাইরের নানা বিষয় সামলেছেন।
মেসির শৈশব থেকে বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পথচলায় বাবার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারের নানা কঠিন সময়ে যে মানুষটি পাশে ছিলেন, তাকে হারানোর শোক মেসির জন্য ছিল অত্যন্ত গভীর।
একদিকে প্রিয় বার্সেলোনাকে বিদায় জানানোর কান্নাভেজা স্মৃতি, অন্যদিকে বাবাকে হারানোর বেদনা—দুটি বড় ঘটনা মেসির জীবনে একই তারিখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
ফুটবল মাঠে অসংখ্য সাফল্য ও আনন্দের মুহূর্ত উপহার দেওয়া মেসির ব্যক্তিগত জীবনে ৮ আগস্ট তাই এক গভীর বিষাদের স্মৃতি বহন করে। এই তারিখটি তার জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের বেদনাদায়ক স্মারক হয়ে রয়ে গেছে।