শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> গাড়ির ইঞ্জিনে লুকিয়ে ১২২ কিলোমিটার পাড়ি, অক্ষত উদ্ধার বিড়ালছানা

>> ঘরে রক্তাক্ত স্ত্রীর মরদেহ, ফ্যানের হুকে ঝুলছিল স্বামী

>> ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মস্কো-কিয়েভে যাচ্ছেন কুশনার ও উইটকফ

>> মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত, নতুন গন্তব্যে বাড়ছে প্রতারণার ঝুঁকি

>> বলিভিয়ায় সামরিক ব্যারাকে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০; আহত ৬০-এর বেশি

>> অনিরাপদ পানি ও দুর্বল স্যানিটেশনে চট্টগ্রামে বাড়ছে ডায়রিয়া-কলেরার ঝুঁকি

>> শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আগে মানুষের মন ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে: মাহফুজ খন্দকার

>> সাড়ে পাঁচ মাস পর হুইলচেয়ারে সংসদে মির্জা আব্বাস, দিলেন আবেগঘন বক্তব্য

>> মহানবী (সা.) ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, যুবক ৫ দিনের রিমান্ডে

>> মেসিকে মিস করবেন মরিনিও, শেষ সময়টা উপভোগ করতে চান

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত, নতুন গন্তব্যে বাড়ছে প্রতারণার ঝুঁকি


Rabeya ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৩৫



মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত, নতুন গন্তব্যে বাড়ছে প্রতারণার ঝুঁকি


বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে কর্মী যাওয়ার সুযোগ কমে এসেছে। একই সময়ে রাশিয়া, কম্বোডিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের আশায় গিয়ে প্রতারণা, মানব পাচার ও জীবনহানির শিকার হচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি।

লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের ঘটনাটি এর একটি উদাহরণ। সেনানিবাসে বাবুর্চির চাকরির কথা বলে গত বছর তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে রান্নার কাজে নয়, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে।

জাহাঙ্গীরের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ক্যাম্পে তাঁদের সঙ্গে আরও ১৫ জন ছিলেন। শুরুতে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। পরে একদিন অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চারজন মারা যাওয়ার পর আতঙ্কে দিন কাটছিল তাঁর। অসুস্থ হয়ে প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার পর সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরেন তিনি।

ঝুঁকিপূর্ণ নতুন গন্তব্যে বাড়ছে যাত্রা

বাংলাদেশিদের বিদেশে কর্মসংস্থানের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল। তবে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মালয়েশিয়ার মতো শ্রমবাজারে কর্মী যাওয়া কমে গেছে বা অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো শ্রমবাজারগুলো সংকুচিত হওয়ার কারণে নতুন গন্তব্যের প্রতি কর্মীদের আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার ছাড়পত্র নিয়েছিলেন ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি। ওই বছর বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের তালিকায় দেশটি অষ্টম অবস্থানে উঠে আসে। একই সময়ে রাশিয়ায় যান ৪ হাজার ৭২৭ জন, যা দেশটিকে ১৩তম অবস্থানে নিয়ে আসে।

বিদেশে কর্মী যাওয়াও কমছে

সামগ্রিকভাবে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার প্রবণতাও কমেছে। বিএমইটির হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ কর্মী বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র নিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার।

রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরীর মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের বাজার সংকুচিত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার বাজার বন্ধ। দেশের ভেতরেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকে যেকোনো উপায়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে প্রতারণা ও পাচারের ঝুঁকি বাড়ছে।

তাঁর মতে, বন্ধ শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করার পাশাপাশি নতুন নিরাপদ শ্রমবাজার তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

গত দেড় দশকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০৩টি দেশে কর্মী পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে বিদেশে গেছেন ১ কোটি ১০ লাখের বেশি কর্মী।

তবে এর প্রায় ৭৯ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। আর মোট কর্মীর প্রায় ৯৪ শতাংশ গেছেন ১০টি দেশে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও মালদ্বীপ।

অন্যদিকে ৯৮টি দেশে গত ১৫ বছরে ১০০ জন করেও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাবনাময় দেশগুলোর শ্রমবাজার চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজার বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

মালয়েশিয়া ও উপসাগরীয় বাজারে ধাক্কা

মালয়েশিয়ায় ২০২৩ সালে সাড়ে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালের জুনে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়।

ওমানেও ২০২৩ সালে সোয়া লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে সেখানে কর্মী যাওয়া কার্যত বন্ধ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী গেলেও ২০২৪ সালে সংখ্যাটি নেমে আসে ৪৭ হাজারে। ২০২৫ সালে সেখানে গেছেন মাত্র ১৩ হাজার ৭৫০ জন।

বাহরাইনেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে লেবাননের শ্রমবাজারও সংকুচিত হয়েছে এবং দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে।

সৌদি আরবেও কমছে কর্মী যাওয়া

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবই প্রধান গন্তব্য হয়ে আছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে সোয়া ছয় লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজের জন্য যান। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি হয়।

তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে গেছেন প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার কর্মী। অর্থাৎ আগের তুলনায় গতি কমেছে।

সৌদি আরবে গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যে হারে কর্মী দেশটিতে যাচ্ছেন, সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কম্বোডিয়ায় কলসেন্টারের চাকরি, পরে স্ক্যাম সেন্টার

নতুন শ্রমবাজার হিসেবে কম্বোডিয়ায় গিয়েও অনেকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কলসেন্টারে চাকরির কথা বলে নিয়ে গিয়ে তাঁদের অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্প্রতি বিভিন্ন ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ অভিযান চালিয়েছে। এরপর জুন মাসে ৬৪৬ জন বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফেরেন। আরও অনেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কম্বোডিয়ায় পর্যাপ্ত বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও সেখানে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা

রাশিয়ায় কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। কেউ কেউ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। আবার কারও মৃত্যুর খবরও এসেছে।

ব্যাংককভিত্তিক ফোর্টিফাই রাইটস ও ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডস গত মার্চে জানিয়েছিল, রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া শতাধিক বাংলাদেশি তরুণের মধ্যে তখন পর্যন্ত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন।

ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রাণহানি

উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের একটি অংশ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে লিবিয়ায় পৌঁছাচ্ছেন। সেখানে প্রতারণা, নির্যাতন ও মুক্তিপণের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে মারা যাচ্ছেন।

২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালিতে পৌঁছান বিভিন্ন দেশের ৬৬ হাজার ৩১৬ জন। এ পথে ১ হাজার ১২৬ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত একই পথে ইতালিতে পৌঁছেছেন ১৪ হাজার ১৯৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৯১ জন বা ৩২ শতাংশই বাংলাদেশি।

মানব পাচারের মামলায় শাস্তি কম

ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। বিদেশ থেকে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি নিহত প্রবাসীদের পরিবারের পক্ষ থেকেও মামলা করার ঘটনা রয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মানব পাচারবিরোধী ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫৩৬টি মামলায় ১ হাজার ৬৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৩৫৩ জন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে করা ৪ হাজার ৪২৭টি মামলার প্রায় ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ আসামি খালাস পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা কঠিন।

রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন

অভিবাসন খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১৯২টি, পাকিস্তানে ৪৬৪টি, নেপালে ৪১৬টি এবং শ্রীলঙ্কায় ২৪৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে এ সংখ্যা অনেক বেশি।

বাংলাদেশে একসময় রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ৮৫০ থেকে ৯০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ হয়। গত বছর আরও ২৫২টি নতুন এজেন্সির লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়।

বর্তমানে লাইসেন্সধারী এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৬। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এজেন্সির সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে এনে নজরদারি জোরদার করা দরকার।

সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, প্রচলিত শ্রমবাজারের পাশাপাশি নতুন গন্তব্য খুঁজতে সরকার কাজ করছে। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আগের বড় বাজারগুলোতে আবার বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে পাঁচ বছরে দেশের বাইরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির কথা রয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন খাতে প্রতারণা ও ভোগান্তি কমানো এবং দক্ষ কর্মীদের আন্তর্জাতিক সনদ পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

তবে অভিবাসন খাত বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগপত্র ও কর্মসংস্থানের সুযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। যাচাই করা সম্ভব নয়—এমন দেশের ক্ষেত্রেও কীভাবে কর্মীদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতারণার পর দেশে ফেরা

বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরার একটি ধারণা পাওয়া যায় ট্রাভেল পাসের হিসাব থেকেও। বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন ১৫ হাজার ২৪৫ জন। শুধু এপ্রিল মাসেই ফিরেছেন আরও ৮ হাজার ২১৫ জন।

লিবিয়ায় দীর্ঘদিন বন্দিজীবন কাটানোর পর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের একজন মাদারীপুরের মশিউর রহমান। ইতালি যাওয়ার আশায় তিনি নিজের খাবারের হোটেলের ব্যবসা ছেড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ টাকা হারিয়ে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।

দেশে ফিরে স্বজনদের কাছে ফিরতে পারলেও মশিউরের সামনে এখন আরেক দুশ্চিন্তা—পাওনাদারদের কাছে তিনি কী জবাব দেবেন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে শ্রমবাজারের বৈচিত্র্যহীনতা, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো বাজার, নতুন গন্তব্যে যাচাইহীন নিয়োগ এবং মানব পাচার। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে শুধু নতুন বাজার খোঁজা নয়, কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।