রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ, আটক মমতা-কেজরিওয়ালসহ একাধিক নেতা

>> সিরাজগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মী আটক

>> আইফোনের সূত্র ধরে তাজমিন হত্যা মামলার তদন্ত, গ্রেপ্তার সিএনজিচালক

>> বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি

>> ‘জামায়াতের সেক্রেটারির ৭০০ অটোরিকশা’—ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছে প্রমাণ চাইল জামায়াত

>> চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনা মালিককে মারধরের অভিযোগ, উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি

>> সীতাকুণ্ডে বিদ্যালয়ের পেছনে মিলল হাত-পা বাঁধা নারীর মরদেহ

>> চট্টগ্রাম কাস্টমসে এসি ওমর ফারুক ও আরও সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

>> ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

>> সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ

আপনি পড়ছেন : ধর্ম

সাহাবি খোবাইব (রা.)-এর শাহাদাত থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায়


Rabeya ৩১ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০:৪২



সাহাবি খোবাইব (রা.)-এর শাহাদাত থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায়


ইসলামের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরামের আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে খোবাইব ইবনে আদি (রা.)-এর শাহাদাতের ঘটনা বিশেষভাবে স্মরণীয়। ঈমানের প্রতি অবিচল থাকা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি।

বদরের বীর সাহাবি

খোবাইব (রা.) ছিলেন মদিনার আনসারদের একজন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পথে নিজেকে উৎসর্গ করেন। বদর যুদ্ধে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নেন। ওই যুদ্ধে কোরাইশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হওয়ায় তাঁর প্রতি মক্কার নেতাদের ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা আরও বেড়ে যায়।

তবে শত্রুর ভয় তাঁকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তাঁর কাছে ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজি প্রান্তরে বিশ্বাসঘাতকতা

হিজরি চতুর্থ বছরে আদল ও কারা গোত্রের কিছু লোক ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে নবীজি (সা.)-এর কাছে কয়েকজন সাহাবিকে পাঠানোর অনুরোধ করে। তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কয়েকজন সাহাবিকে দাওয়াতের কাজে পাঠান।

কিন্তু পথেই তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়। রাজি নামের স্থানে সাহাবিদের ওপর হামলা চালানো হলে কয়েকজন শহীদ হন। খোবাইব (রা.)-সহ কয়েকজনকে বন্দী করা হয়। পরে তাঁকে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বদরে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাঁকে হস্তান্তর করা হয়।

বন্দিত্বের কঠিন সময়েও খোবাইব (রা.) তাঁর ঈমান ও ইবাদত থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ছিল অত্যন্ত দৃঢ়।

বন্দিত্বেও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ

হাদিসের বর্ণনায় খোবাইব (রা.)-এর বন্দিত্বের সময় একটি বিস্ময়কর ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁকে পাহারা দেওয়া এক নারী তাঁর কাছে তাজা আঙুর দেখতে পান। অথচ সে সময় মক্কায় আঙুরের মৌসুম ছিল না এবং বন্দী খোবাইবের কাছে এমন ফল পৌঁছানোর স্বাভাবিক কোনো পথও ছিল না।

ঘটনাটি তাঁর প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শন হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

মৃত্যুর আগে দুই রাকাত নামাজ

একসময় খোবাইব (রা.)-কে হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত্যুর আগে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করার অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি শান্তভাবে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষ করে তিনি জানান, মৃত্যুভয়ে নামাজ দীর্ঘ করছেন—এমন ধারণা না থাকলে তিনি আরও দীর্ঘ নামাজ পড়তেন।

মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ইবাদতের প্রতি তাঁর এই মনোযোগ একজন মুমিনের ঈমানি দৃঢ়তার অসাধারণ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা

মুশরিকরা খোবাইব (রা.)-কে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল। তাঁকে এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়—মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিবর্তে তিনি নিরাপদে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান কি না।

কিন্তু খোবাইব (রা.) এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামান্য কষ্টের বিনিময়েও নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি রাজি ছিলেন না।

তাঁর এই অবস্থান নবীপ্রেম, আনুগত্য এবং ঈমানের গভীরতার একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

শাহাদাতের আগে দোয়া

শাহাদাতের আগে খোবাইব (রা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন এবং তাঁর সালাম যেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছে যায়—এমন প্রার্থনাও করেন।

এরপর তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন। শত্রুরা তাঁর জীবন কেড়ে নিতে পারলেও তাঁর ঈমান ও আদর্শকে পরাজিত করতে পারেনি।

খোবাইব (রা.)-এর ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা

খোবাইব ইবনে আদি (রা.)-এর শাহাদাতের ঘটনা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।

১. ঈমানে দৃঢ় থাকতে হবে
বিপদ ও কঠিন পরিস্থিতিতেও একজন মুমিনের বিশ্বাস দুর্বল হওয়া উচিত নয়।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা
নবীপ্রেম শুধু আবেগের বিষয় নয়; তাঁর আদর্শ ও নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যের মধ্য দিয়েই সেই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে।

৩. নামাজের গুরুত্ব
জীবনের চরম সংকটেও খোবাইব (রা.) নামাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে মুমিনের জীবনে ইবাদতের মর্যাদা স্পষ্ট হয়।

৪. বিপদে ধৈর্য ধারণ
বন্দিত্ব, নির্যাতন ও মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্যেও তিনি ধৈর্য হারাননি। কঠিন সময়ে ধৈর্য একজন মুমিনের অন্যতম বড় গুণ।

৫. সত্যের পথে ত্যাগ স্বীকার
সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে কখনো কখনো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। খোবাইব (রা.) তাঁর জীবন দিয়ে সেই শিক্ষা রেখে গেছেন।

৬. দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে অগ্রাধিকার
জীবন রক্ষার বিনিময়ে ঈমান বিসর্জন দেওয়ার পথ তিনি বেছে নেননি। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, একজন মুমিনের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ অর্জন।

খোবাইব (রা.)-এর শাহাদাতের ঘটনা তাই শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; বরং ঈমান, ধৈর্য, ইবাদত, ত্যাগ ও আল্লাহর ওপর ভরসার এক অনন্য শিক্ষা।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪০৮৬