রোববার রাতে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। এতে ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, মামলায় তাঁদের দলের পাঁচজন সক্রিয় কর্মীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে ওই পাঁচজনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও দিনাজপুর জেলা শাখার সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারে ২১ নম্বর আসামি হিসেবে হারুন অর রশিদ, ২২ নম্বরে তাঁর ছেলে মো. রোকনুজ্জামান, ৯৩ নম্বরে তাঁর জামাতা মোস্তফা কামাল নওশাদ এবং ২৫ ও ২৬ নম্বর আসামি হিসেবে আবদুস সাত্তার ও রফিকুল ইসলামের নাম রয়েছে। তাঁদের সবাই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেন তিনি।
আনোয়ারুল ইসলামের অভিযোগ, ভবিষ্যতে জামায়াতের সভা-সমাবেশ ও মিছিলে কর্মীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানতে পৃথকভাবে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
মামলার এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য ও নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিবলী সাদিকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নাম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জিয়াউর রহমান মানিক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তাজওয়ার মোহাম্মদ ফাহিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েম সবুজ ও সানোয়ার হোসেন মণ্ডলের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আবুল বাসার এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি শাহিনুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর পাহাড়পুর এলাকায় পাঠানগঞ্জ-ডাংশেরহাট সড়কে কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হন। সেখানে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলের দাবিতে মশালমিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মিছিলে ব্যবহারের জন্য লোহার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি ও মশাল প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ সময় রাজ ইসলাম ও মাসুদ রানা নামে দুজনকে আটক করা হয়।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস জানান, আটক দুজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
মামলায় জামায়াতের পাঁচ কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।