ঢাকার জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন (রাখি)-এর চেম্বারে হামলা, সহকর্মীদের মারধর এবং চেম্বার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে একদল আইনজীবী তাঁর চেম্বারে প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় চেম্বারে ক্লায়েন্টদের উপস্থিতিতে নিয়মিত আইনি কার্যক্রম চলছিল। এ সময় একদল আইনজীবী অতর্কিতভাবে চেম্বারে প্রবেশ করে আগের দিনের একটি 'কালো ব্যাজ' কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে চেম্বারে থাকা কয়েকজন সহকর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি মারা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিনের সঙ্গেও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় চেম্বারের শাটারে লাথি মেরে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আশপাশের আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। এতে ফারজানা ইয়াসমিন ও তাঁর সহকর্মীরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন লেখেন, "গতকাল কোর্টে আওয়ামী লীগের প্রোগ্রাম করেছি—এই অভিযোগ দিয়ে আমার চেম্বারে অতর্কিত আক্রমণ করা হয়। আমার চেম্বারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় হুমকি দিয়ে চেম্বার বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।"
অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের সনদপ্রাপ্ত একজন আইনজীবী। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।