সকাল ১০টার দিকে বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর জেলা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে আন্দোলনকারীরা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা ও তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হলেও উৎপাদন এলাকার মানুষই চরম বিদ্যুৎ সংকটের শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, বরগুনার প্রায় ১০ লাখ মানুষ দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাছ সংরক্ষণে সমস্যা তৈরি হওয়ায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বরগুনায় সার্বক্ষণিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহার, বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য পুনর্বিবেচনা, নিয়মিত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রদান, অবৈধ সংযোগ বন্ধ, গ্রাহকদের সঙ্গে হয়রানি ও দুর্ব্যবহার বন্ধ এবং বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস স্থাপন।
জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, এটি আন্দোলনের প্রথম ধাপ। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ অফিস অচল করার মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
পরে আন্দোলনকারীরা তাদের সাত দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
এদিকে ওজোপাডিকোর বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান জানান, বরগুনা শহরে বর্তমানে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। একইভাবে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় প্রায় ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।