বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২৬
৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

>> রাজউকের পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

>> রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন? তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের দাবি

>> কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

>> দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির পর স্বামীর জানাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

>> শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক আটক

>> জামায়াত কখনোই মেইনস্ট্রিম রাজনৈতিক দল হতে পারবে না: নুরুল হক নুর

>> ইরান ইস্যুতে ক্ষোভ, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া সীমিত করার নির্দেশ ট্রাম্পের

>> নতুন সরকারের ছয় মাস: নাগরিকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব

আপনি পড়ছেন : আইন-আদালত

চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন ডেভিড ইমন, নগদ টাকা সংগ্রহে ছিল আলাদা নেটওয়ার্ক


৩১ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১:৫৯



চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন ডেভিড ইমন, নগদ টাকা সংগ্রহে ছিল আলাদা নেটওয়ার্ক

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজির একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ বলছে, চাঁদা আদায়ের জন্য তাঁর বাহিনীতে তথ্য সংগ্রহ, হুমকি, নগদ টাকা সংগ্রহ এবং হামলা চালানোর জন্য পৃথক পৃথক দল সক্রিয় ছিল। সংগ্রহ করা অর্থ হুন্ডি ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

গত বুধবার যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, চাঁদা দাবি করার আগে ব্যবসায়ী বা প্রবাসীদের আয়-সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবন, ব্যবসা এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হতো। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে গুলি, হামলা কিংবা ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হতো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নগদ টাকাই সংগ্রহ করত বাহকেরা। নির্দিষ্ট স্থানে অথবা ভুক্তভোগীর বাসার সামনে গিয়ে টাকা নিয়ে চলে যেত তারা। পরে সেই অর্থ নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া হতো। পুলিশ জানায়, তিনি হুন্ডি বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ ইমনের কাছে পাঠাতেন। বর্তমানে ইউসুফকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সম্প্রতি দক্ষিণ পাহাড়তলীর এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, প্রথমে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করার পর পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী দুই যুবক এসে তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে যায়।

এ ধরনের আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে কেউই প্রকাশ্যে নাম বলতে রাজি হননি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, বাহিনীর একটি দল তথ্য সংগ্রহ করত, আরেকটি দল নগদ টাকা নিত, অন্য একটি দল হামলা-ভাঙচুর ও গুলির ঘটনায় অংশ নিত। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা সদস্য নিয়োজিত ছিল।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, রিমান্ডে নেওয়ার পর ডেভিড ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজির অর্থ কোথায় গেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ির বাসিন্দা ডেভিড ইমন একসময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নিয়মিত অনুশীলনও করতেন। তবে পরে তিনি অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন এবং পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিতি পান। পুলিশের দাবি, বর্তমানে সাজ্জাদ বাহিনীর হয়ে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি।

গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে এক গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে ইমন স্বীকার করেছিলেন যে তিনি টাকা নিতেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল ধনী হওয়া, আর সেই কারণেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।