রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে জালিয়াতির অভিযোগ, জি কে শামীমের বিচার শুরু

>> সংখ্যার হিসাবেই সমস্যা, অর্থকড়ি সামলান বাবা—ডিসক্যালকুলিয়ার কথা জানালেন তারা

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনের সময় বাড়ল, মিলবে তথ্য সংশোধনের সুযোগ

>> নো বল ঠেকাতে গাভাস্কারের পরামর্শ, জরিমানা হোক বোলার-কোচ দুজনেরই

>> দেয়ালে সাঁটানো মুখগুলো কি কখনো ফিরবে ঘরে?

>> ই-জিরো বোর্ডে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা

>> হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

>> ঢাকায় আরও দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় ২ লাখ কোটি ছাড়াচ্ছে

>> যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

>> পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ, বাঁচতে হলে এখন ‘মিরাকল’ই ভরসা

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

ই-জিরো বোর্ডে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা


Rabeya ৩০ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৩:০২



ই-জিরো বোর্ডে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা


দেশে অন্দরসজ্জা ও আসবাবপত্রের জন্য পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ বোর্ডের ব্যবহার বাড়ছে। ক্ষতিকর ফরমালডিহাইড নির্গমন কমিয়ে ই-জিরো মানের বোর্ড বাজারজাত করছে সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্য উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।

সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেডের হেড অব বিজনেস মোহাম্মদ নুরুন নবী জানান, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্যানেল বোর্ডের গুণগত মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নতুন পণ্য উদ্ভাবনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগ কাজ করছে। সেই গবেষণার অংশ হিসেবে ক্ষতিকর ফরমালডিহাইড নির্গমনমুক্ত ই-জিরো মানের বোর্ড বাজারে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে সাধারণত ই-ওয়ান থেকে ই-ফোর মানের বোর্ড উৎপাদন করা হয়। এসব বোর্ডে থাকা কিছু রাসায়নিকের কারণে চোখে জ্বালাপোড়া, ত্বকে অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তুলনামূলকভাবে ই-জিরো মানের বোর্ডকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষায়িত বোর্ড ও নতুন পণ্য

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঠান্ডা ও গরম পানি এবং তাপ সহনশীল বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত বোর্ডও বাজারজাত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ফোর প্রেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে প্লাইউড উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব পণ্যও ই-জিরো মান বজায় রেখে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অন্দরসজ্জা ও আসবাবপত্রে নান্দনিকতা বাড়াতে ভিনিয়ার বোর্ড ও ডেকোরেটিভ মেলামাইনের পাশাপাশি সম্প্রতি অ্যাক্রিলিক, এইচপিএল শিট এবং পিইটি পণ্য যুক্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তার মতে, এসব পণ্য দেশে উৎপাদন ও বাজারজাতের ফলে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্দরসজ্জা ও আসবাবপত্র শিল্পে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ছে।

কাঠের বিকল্প হিসেবে বোর্ড

পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ইঞ্জিনিয়ার্ড বোর্ড শিল্পের ভূমিকা রয়েছে। প্রাকৃতিক কাঠের ব্যবহার কমিয়ে মেলামাইন ও পার্টিকেল বোর্ড ব্যবহারের ফলে বনজ সম্পদের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বোর্ড তৈরিতে স-মিলের কাঠ কাটার পর পড়ে থাকা গুঁড়া এবং পাটখড়ির মতো উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কাঠের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ঘর সাজাতে বাড়ছে ব্যবহার

আধুনিক অন্দরসজ্জায় বিভিন্ন ধরনের বোর্ডের ব্যবহার বহুমুখী হয়ে উঠেছে। রান্নাঘরের ক্যাবিনেট ও মডুলার কিচেনে আর্দ্রতা সহনশীল মেলামাইন ও এইচডিএইচএমআর বোর্ড ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো পরিষ্কার করা সহজ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য।

ড্রয়িংরুম ও শোবার ঘরে কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আনতে এমডিএফ ভিনিয়ার্ড প্যানেল দিয়ে দেয়াল সাজানো ও ফলস সিলিং করার প্রবণতাও বাড়ছে।

ছোট আকারের ফ্ল্যাটে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডরোব, স্লাইডিং ডোর, পার্টিশন ও বিভিন্ন ধরনের সিএনসি ডিজাইনে বোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। একইভাবে খাটের নিচে হিডেন ড্রয়ার, ওয়াল প্যানেল ও গোপন স্টোরেজ তৈরিতেও ইঞ্জিনিয়ার্ড বোর্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তুলনামূলক কম খরচে অন্দরসজ্জা

প্রাকৃতিক কাঠের বিকল্প হিসেবে বোর্ড ব্যবহারের আরেকটি কারণ হলো খরচ। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত সেগুন কাঠের তুলনায় ইঞ্জিনিয়ার্ড বোর্ড ব্যবহার করে অন্দরসজ্জায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় কমানো সম্ভব।

ফলে পরিবেশ সুরক্ষা, তুলনামূলক কম ব্যয় এবং নকশার বৈচিত্র্যের কারণে আধুনিক ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রে ইঞ্জিনিয়ার্ড বোর্ডের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।