শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ‘দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাস!’ ইকুরিয়া বিআরটিএতে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ পরিদর্শক মনিষ কুমারের বিরুদ্ধে

>> রৌমারীতে অটোরিকশার ওপর ট্রাক উঠে নিহত ৫

>> কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৬ পর্যটকের মৃত্যু, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত

>> পটিয়া ভূমি অফিসে নথি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি

>> বান্দরবান-চট্টগ্রামে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের দাবি

>> রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৪৮১, ৪০ মামলা

>> মুক্তি পেলেন নেহা, অভিজিৎ দীপকের অবস্থান জানতে চায় সিজেপি

>> সিলেটের বিতর্কিত মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার এখন কুমিল্লায়, দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ

>> জাল স্বাক্ষরে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের অভিযোগ, বিআরটিএর বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

>> হঠাৎ ভারত সফরে যাচ্ছেন মোজাম্মেলের মেয়ে মেহেরিন, ছুটির আদেশ ঘিরে আলোচনা

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

‘দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাস!’ ইকুরিয়া বিআরটিএতে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ পরিদর্শক মনিষ কুমারের বিরুদ্ধে


Sheikh Mojahidur Rahman ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৭
‘দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাস!’ ইকুরিয়া বিআরটিএতে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ পরিদর্শক মনিষ কুমারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এর ইকুরিয়া কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে মোটরযান পরিদর্শক মনিষ কুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রার্থীরাও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ প্রক্রিয়াকে তাঁরা ‘দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাস’ বলে অভিহিত করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় শূন্য নম্বর পাওয়া কিংবা সাদা খাতা জমা দেওয়া প্রার্থীদেরও নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ ক্ষেত্রে মনিষ কুমার চক্রবর্তী ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স পাওয়ার অভিযোগ

লাইসেন্স পরীক্ষার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় ২০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৮ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দিলে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য এমনকি অক্ষরজ্ঞানহীন প্রার্থীদেরও প্রথমে লার্নার এবং পরবর্তী সময়ে হালকা ও ভারী যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সড়ক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ, যথাযথ দক্ষতা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়াই কেউ গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়কে ঘিরে শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, যানবাহনের নিবন্ধন, রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো সেবায়ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব সেবাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে।

তাঁদের দাবি, সেবার ধরন অনুযায়ী সরকারি ফি-র বাইরে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। মাসে প্রায় ২০ কার্যদিবসে এ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন হতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কথিত এই অর্থের বণ্টন, কর্মীদের মধ্যে ভাগ নির্ধারণ এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষার বিষয়গুলোতে মনিষ কুমার চক্রবর্তীর ভূমিকা রয়েছে। তবে এসব আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য নথি এবং তদন্তের ফলাফল প্রয়োজন।

অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচার নিয়েও অভিযোগ

মনিষ কুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের আড়ালে অনিয়মের মাধ্যমে ঢাকাসহ নিজের ও শ্বশুরবাড়ির এলাকায় নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও সামনে এসেছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য নথি, সম্পদের বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলে সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা ও আইনানুগ তদন্ত প্রয়োজন।

দুদকের অভিযান, তবু অনিয়ম বন্ধ হয়নি বলে দাবি

ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে অনিয়ম, কার্যালয়ের জায়গা দখল এবং আশপাশের অবৈধ দোকান ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেখানে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযান পরিচালনার পরও ঘুষ ও দালালনির্ভর কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তাঁদের মতে, কেবল অভিযান পরিচালনা নয়, অভিযোগগুলোর উৎস, আর্থিক লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা প্রয়োজন।

সচেতন মহলের দাবি, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন, কথিত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুদক এবং বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদারকি জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল, লাইসেন্স ইস্যুর নথি, সরকারি ফির বাইরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এবং কার্যালয়ের আশপাশে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।