শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> এআই দিয়ে কর্মকর্তাদের কণ্ঠ নকল করে ইতালির ব্যাংক থেকে ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো জালিয়াতি

>> উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে দুই অটোরিকশার সংঘর্ষ, রোহিঙ্গা যুবক নিহত

>> গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, আটক অনেকে

>> ভারতে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী জোটে মতপার্থক্য; পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকার

>> ঝিনাইদহে ব্যাগ থেকে ককটেলসদৃশ দুটি বস্তু উদ্ধার

>> রাউজানে গভীর রাতে পিকআপে আগুন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

>> কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় তদবিরের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের আটজন আটক

>> কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন-চিকিৎসকদের হাতাহাতি, মামলা

>> বাদ পড়া শিশুদের জন্য আবারও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি

>> মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরে উদ্বেগ, জড়িতদের শাস্তির দাবি

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

জেমিনাইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে তিন তরুণ, রাত কাটল গিরিখাতে


Rabeya ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৮



জেমিনাইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে তিন তরুণ, রাত কাটল গিরিখাতে


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট জেমিনাইয়ের পরামর্শ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্ট শাস্তায় পর্বতারোহণে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন তিন তরুণ। আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের রাত কাটাতে হয় দুর্গম একটি গিরিখাতে। এ ঘটনায় একজন আহতও হন। পরে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় তিনজনকেই নিরাপদে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনা হয়।

রোজভিলের বাসিন্দা ওই তিন তরুণের কারওই পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতা ছিল না। অভিযানের প্রস্তুতির সময় তাঁরা ইউটিউব, অলট্রেইলস অ্যাপের পাশাপাশি জেমিনাইয়ের সাহায্য নেন। পাহাড়ের কোন পথ ব্যবহার করা উচিত, চূড়ায় যেতে কত সময় লাগবে এবং কতটা খাবার ও পানি প্রয়োজন—এসব বিষয়েও তাঁরা এআই চ্যাটবটের পরামর্শ নেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় বেজক্যাম্প স্থাপন করেন তাঁরা। পরদিন ভোররাত ৩টার দিকে ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু চূড়ার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে চূড়ায় উঠে আবার বেজক্যাম্পে ফিরে আসা।

তবে স্থানীয় পর্বতারোহীদের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তা পরামর্শ তাঁরা মানেননি। মাউন্ট শাস্তায় সাধারণত দুপুরের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে দিনের আলো থাকতে পাহাড় থেকে নেমে আসা যায়। কিন্তু তিন তরুণ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও চূড়ার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা চূড়ায় পৌঁছান।

এর ফলে ফেরার পুরো পথ অন্ধকারে অতিক্রম করতে হয়। চূড়া থেকে নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁরা মূল পথ হারিয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। প্রায় ১১ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় তাঁদের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান।

পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে রাত ১২টার দিকে তিনজন গিরিখাতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পাহাড়ে রাত কাটানোর জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না। খাবার ও পানি ছিল সীমিত, পাশাপাশি পর্যাপ্ত গরম পোশাক বা আশ্রয়ের ব্যবস্থাও ছিল না।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করেন। দুর্গম অবস্থানের কারণে হেলিকপ্টারে করে সরাসরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে পাহাড় থেকে নিচে নামেন তিন তরুণ। বিকেল ৩টার দিকে তাঁরা বেজক্যাম্পে পৌঁছান। এরপর সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের সহায়তায় ট্রেইলহেডের দিকে রওনা হয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উদ্ধারের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করেন ওই তিন তরুণ। তাঁরা জানান, নিজেদের বিচার-বুদ্ধির বদলে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করাই তাঁদের বড় ভুল ছিল।

সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শুধু জেমিনাইয়ের পরামর্শই তাঁদের বিপদের একমাত্র কারণ ছিল না। নির্ধারিত সময়ের পরও চূড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়া, অন্ধকারে পাহাড় থেকে নামা, পথনির্দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হারানো, মূল ট্রেইল থেকে সরে যাওয়া এবং রাত কাটানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকাসহ একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

উদ্ধারকর্মীদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় এআইয়ের তথ্যকে একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ে যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, অভিজ্ঞ গাইড ও নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া ও ট্রেইল-তথ্য থেকে তথ্য যাচাই করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।