সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ‘ঘুষ খাওয়ার জন্যই পোশাক পরেছি’—এএসআইয়ের বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

>> ‘না পারলে বলে দিন, আমরা পারছি না’—সরকারকে গোলাম পরওয়ার

>> শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সেনাবাহিনীতে প্রস্তুতি

>> কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, বিএনপিকে দায়ী করলেন নাহিদ ইসলাম

>> রেমিট্যান্সের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য, তবু আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে অবহেলা কেন?

>> এলপিজির দাম এক লাফে বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮৩৭ টাকা

>> আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার এই হাল কেন?

>> সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুই বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আটক ২

>> ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েমের নাম জানাল জামায়াত

>> ডাববোঝাই নছিমন অতিক্রম করতে গিয়ে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল তিন মোটরসাইকেল আরোহীর

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩৬


Rabeya ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:০৬



হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩৬

 


দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৬ জনে। এর বাইরে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০০ জন। সব মিলিয়ে হামে ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৩৬।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। চলমান প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যু হচ্ছে, সেগুলোকে পৃথকভাবে হিসাব করা হচ্ছে।

নতুন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২৩৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ ধরনের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে।

একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৭৭ জন। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ২০১।

এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের, একজন সিলেট বিভাগের এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।

কয়েক বছরে সংক্রমণ ছিল সীমিত

গত কয়েক বছর ধরে দেশে হামের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রায় আট বছর ধরে বছরে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়ায়নি। ২০২৫ সালের মধ্যে হাম দূর করার এবং ২০২৬ সালে নির্মূলের স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু চলতি বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। একসময় প্রায় নিয়ন্ত্রিত রোগ হিসেবে বিবেচিত হাম এবার বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব তৈরি করেছে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও এক হাজার ছাড়িয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, ২০২৫ সালে টিকাদান কার্যক্রমে দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি অবনতির অন্যতম কারণ হতে পারে।

টিকাদান ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

চলতি বছরের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও শুরুতে পরিস্থিতির প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্চ থেকে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকে। একই সময়ে রোগীদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। তবে ওই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর বর্তমান পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচি আরও কার্যকর করা, বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।