আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে ব্যবহৃত কম্পিউটারের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম নিরাপত্তার দিক থেকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে দাবি করেছেন মামলার আসামি ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
রোববার বিচার কার্যক্রমের একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় এদিন নবম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা পলক ট্রাইব্যুনালের কাছে কিছু সময়ের আবেদন জানান।
পলক বলেন, সাক্ষীকে জেরা শুরুর আগে তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। পাশাপাশি নামাজ আদায় ও দুপুরের খাবারের জন্যও সময় প্রয়োজন। এ কারণে জেরা শুরুর আগে দুই ঘণ্টা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
এ সময় তাঁকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও পেছনে হাতকড়া পরিয়ে ট্রাইব্যুনালে আনার বিষয়েও কথা বলেন পলক। চিকিৎসকের পরামর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাথায় ভারী কিছু না দেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের মতো নিরাপদ স্থানে আনার সময় এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এরপর ট্রাইব্যুনালের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পলক। তাঁর দাবি, এজলাসের কম্পিউটারে যে উইন্ডোজ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ট্রাইব্যুনালে লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
পলকের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম পলকের চাওয়া দুই ঘণ্টা সময় দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান।
নিরাপত্তার প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর বলেন, পলককে কী ধরনের নিরাপত্তা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে আনা হবে, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের সরাসরি কিছু করার নেই।
তবে কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান তিনি। এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান প্রসিকিউটর।
পরে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন, এজলাসের কম্পিউটারে যেন কোনো পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা না হয়।